ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন ও স্পন্সরশিপ বাজারে।
গ্রুপ ‘এ’-তে ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আছে পাকিস্তান। টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা। ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ শুরু, এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি ঐতিহ্যগতভাবেই আইসিসি ইভেন্টের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রচারস্বত্বের মূল্য, বিজ্ঞাপন দর, স্পন্সরশিপ সক্রিয়তা, টিকিট বিক্রি- সব মিলিয়ে এই একটি ম্যাচই টুর্নামেন্টের বড় অংশের বাণিজ্যিক মূল্য তৈরি করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একটি ভারত–পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি ম্যাচের মোট বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার, যা সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রম মিলিয়ে হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন ম্যাচে ১০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের স্লটের মূল্য ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপি পর্যন্ত হয়, যা ভারতের অন্য বড় ম্যাচগুলোর চেয়েও বেশি।
সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে অফিসিয়াল ব্রডকাস্টারের ওপর। শিল্পখাতের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, কেবল ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপির বিজ্ঞাপন আয় হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া, কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বিসিসিআইও প্রায় ২০০ কোটি রুপির তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রশিদ লতিফ উল্লেখ করেছেন, এই বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় অঙ্কের কর্পোরেট বিনিয়োগ ইতোমধ্যে হয়েছে। তার দাবি, ভারতীয় ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির মিডিয়া গ্রুপ একাই প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য অংশ মিলিয়ে বিনিয়োগ প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার।
লতিফের ভাষায়, ‘এত বড় বাজারে ধাক্কা লাগলে এর প্রভাব শুধু একটি ব্রডকাস্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিসিসিআই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শেষ পর্যন্ত আইসিসিও প্রভাবিত হয়।’
ভারতকে বয়কট: কোন শাস্তির মুখে পাকিস্তান?
