যে শর্তে ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারে পাকিস্তান

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তপুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তবে এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর কাছে তিনটি স্পষ্ট দাবি রেখেছে পিসিবি। 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) লাহোরে আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ভারত-পাকিস্তানের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটিকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ানোর উপায় খুঁজে বের করা। সূত্রের খবর, পিসিবি ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিনিময়ে আইসিসির কাছে যে তিনটি শর্ত রেখেছে, সেগুলো হলো:

১.রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তানের অংশ বাড়ানো: বর্তমানে আইসিসির মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পায় পিসিবি, যা বছরে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার। এটাকে আরও বাড়াতে চায় তারা।

২.ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ পুনরায় চালু: এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এটি দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আইসিসির এখানে সরাসরি কোনো ক্ষমতা নেই।

৩.আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যান্ডশেক প্রটোকল কঠোরভাবে মানা: এটি ২০২৫ এশিয়া কাপের প্রেক্ষাপটে এসেছে। পেহেলগাম হামলার পর ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানিদের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গিয়েছিলেন, যা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

এর আগে পাকিস্তান সরকার প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ হলেও ভারতের বিপক্ষে খেলতে দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার এই অবস্থানের কোনো স্পষ্ট কারণ দেয়নি। ক্রিকেট অঙ্গনে ধারণা, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ নাকচ করায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এরপরই পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

আইসিসি এখন সমঝোতার চেষ্টায় উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈঠকে আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত জুমের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিলেন। লাহোরে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং বিসিবির সভাপতি।

ক্রিকবাজ আরও জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসি বড় অঙ্কের সম্প্রচার রাজস্ব হারাবে। পিসিবি এই আর্থিক চাপকেই কাজে লাগিয়ে দাবি আদায় করতে চাইছে। এছাড়া বাংলাদেশও আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে, এবং এতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

AHA
আরও পড়ুন