কানপুর টেস্টে প্রথম তিনদিনের মধ্যে আড়াই দিনেরও বেশি সময় বৃষ্টির কারণে নষ্ট। তিনদিনে মাত্র ৩৫ ওভার খেলা হয়েছে। ফলে ম্যাচের রেজাল্ট হওয়া কঠিনই বটে। তারপরও হাল ছাড়েনি স্বাগতিক ভারত। টেস্টের রেজাল্ট নিজেদের দিকে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে তারা। আর তাতেই এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছে দলটি। প্রথম ইনিংসে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারত টেস্টের অনেক অনেক রেকর্ড তৈরি করে কানপুরে। টি- টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে ভারত দ্রুতগতিতে বাংলাদেশের স্কোর টপকে যায়। বাংলাদেশের ২৩৩ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ২৮৫ রান তুলে ভারত ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে লিড পায় ভারত ৫২ রানের। জবাবে এই রিপোর্ট লেখার সময় শেষ সেশনে বাংলাদেশ ওপেনার জাকির হাসানের উইকেট হারিয়ে তুলে ১৮ রান।
৩ উইকেটে ১০৭ রান নিয়ে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মমিনুল হকের সেঞ্চুরির সুবাদে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৩৩ রানে অল আউট হয়। হালকা চালে খেলে ড্র করা যাবে, কিন্তু জয় পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। ভারত প্রথমটি নয়, শুরু থেকে দ্বিতীয়টির জন্য লড়াই শুরু করে। মারমুখী ব্যাটিং করতে থাকেন দুই ওপেনার জযশ্বী জয়সাল ও রোহিত শর্মা। যেভাবে দুইজন ব্যাট চালিয়েছেন তাতে করে যে কারো সন্দেহ জাগতে পারে, এটা টেস্ট না টি-টোয়েন্টি? দুই ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ২৯ রান। আর তিন ওভারে সেই রান দাঁড়ায় ৫১। আর তাতেই বিশ্ব রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বল খেলে দলীয়ভাবে হাফ সেঞ্চুরির কীর্তি এটি।
টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে সবচেয়ে কম বলে দলীয় হাফ সেঞ্চুরি ছিল ইংল্যান্ডের। ৪.২ ওভারে নটিংহ্যামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিল তারা।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০.১ ওভারে দলীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ভারত। এখানেও রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে দলীয়ভাবে সবচেয়ে দ্রুতগতির সেঞ্চুরি এটি। আগেরটিও ভারতের। সেবারও ইনিংসের গোড়াপত্তনে এই দুই ব্যাটার ছিলেন। ২০২৩ সালে পোর্ট অব স্পেনে ১২.২ ওভারে দলকে শত রান এনে দিয়েছিলেন তারা।
টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম তৃতীয় দলীয় সেঞ্চুরিতেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে। ২০০১ সালে কলম্বো টেস্টে মারভান আতাপাত্তু ও সনাথ জয়সুরিয়া ১৩.২ ওভারে দলীয়ভাবে ১০০ রান করেছিলেন।
টেস্টে দ্রুততম দলীয় সেঞ্চুরি
বল দল প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু
৬১ ভারত বাংলাদেশ ২০২৪ কানপুর
৭৪ ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৩ ত্রিনিদাদ
৮০ শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ ২০০১ কলম্বো
৮১ ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৪ দ্য ওভাল
৮২ বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১২ মিরপুর
