শেষ দিনে ব্যাটিং উৎসব, মুশফিক ও সালমানের সেঞ্চুরি

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৩ পিএম

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ ও শেষ দিনের খেলা ফলহীন হলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে ছিল রান-উৎসব। তিন ম্যাচের একটিতেও জয়-পরাজয় নির্ধারিত না হলেও মাঠে গল্প ছিল ভরপুর-কেউ খেলেছেন অভিজ্ঞতার পরিপক্ব ইনিংস, কেউ লড়েছেন স্বপ্নের সেঞ্চুরির ঠিক আগে থেমে গিয়ে।

ঢাকা ও সিলেটের ম্যাচে আলো কেড়েছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ৯৩ রানে দিন শুরু করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে তুলে নেন সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১১৫ রানে বোল্ড হন তাইবুর রহমানের বলে। ইনিংসটি ছিল ২০৫ বলের, যেখানে ৮টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। মুশফিকের ইনিংসে ভর করে সিলেট থামে ২৯০ রানে, ফলে ঢাকা নেয় ২০ রানের লিড। ঢাকার পক্ষে চারটি উইকেট নেন মোহাম্মদ রিপন মণ্ডল, দুইটি করে উইকেট নাজমুল ইসলাম অপু ও এনামুল হকের।

দ্বিতীয় ইনিংসে জিসান আলম ও আনিসুল ইসলামের ৯৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ঢাকাকে আক্রমণাত্মক শুরু এনে দেয়। আনিসুল ৩৬ রানে আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। জিসান এরপর আশিকুর রহমান শিবলিকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৭৭ রান যোগ করেন। কিন্তু সেঞ্চুরির ছয় রান দূরে এসে নাবিল সামাদের বলে আউট হন তিনি। ১২৫ বলে ৯৪ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায়। শিবলি অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে। ২ উইকেটে ২২২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। সিলেট ১৩ রান তোলার পর ম্যাচ শেষ হয় ড্রয়ে। প্রথম ইনিংসে ১২২ রান করা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন হয়েছেন ম্যাচসেরা।

অন্য ম্যাচে, ময়মনসিংহের বিপক্ষে রংপুর ছিল পুরোপুরি চাপে। ময়মনসিংহের বিশাল ৫৫৫ রানের জবাবে রংপুর গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৭ রানে। নাঈম ইসলাম ও আকবর আলী ২৩ করে রান করেন, নাসির হোসেন করেন ১৯ রান। ময়মনসিংহের হয়ে তিনটি উইকেট নেন আরিফ আহমেদ, দু’টি করে নেন আবু হায়দার রনি ও শহিদুল ইসলাম। ফলো-অন করা রংপুর দ্বিতীয় ইনিংসে অনেকটা সতর্ক ব্যাটিং করে ২ উইকেটে ১১২ রান তোলার পর দিন শেষ হয়। অপরাজিত থাকেন আব্দুল্লাহ আল মামুন ৬৯ রানে। ম্যাচসেরা হয়েছেন ময়মনসিংহের ওপেনার আব্দুল মজিদ।

তৃতীয় ম্যাচে বরিশালের ব্যাটিং নায়ক সালমান হোসেন ইমন। তৃতীয় দিনের ১৬৬ রানের সঙ্গে যোগ করে চতুর্থ দিনে গড়েন ধৈর্যের নজির। ২৪২ বল মোকাবেলা করে অপরাজিত ১২০ রানে ইনিংস শেষ করেন তিনি। ইনিংসে ছিল ১২টি চার। বরিশাল ইনিংস ঘোষণা করে ২৫৯ রানে, ফলে চট্টগ্রাম নেয় ৯৯ রানের লিড। এরপর চট্টগ্রাম মাত্র ৩৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করলে বরিশালের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩৪ রান। ৯ ওভারে ১৯ রান তুলেই ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয়। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সালমান হোসেন ইমন।

আরও পড়ুন