ঢাকা
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
ই-পেপার

বকেয়া টাকার অভিযোগ তুললেন বিজয়, বাদ পড়ে ক্ষোভ!

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম

বিপিএলের দ্বাদশ আসরের নিলাম শুরু হওয়ার আগেই সবচেয়ে বড় আলোচনায় উঠে এসেছে একটাই নাম-এনামুল হক বিজয়। দেশীয় ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম অনুপস্থিত থাকার খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিসিবির ব্যাখ্যা-‘রেড ফ্ল্যাগ’ থাকা ক্রিকেটারদের এবার নিলামে রাখা হয়নি। কিন্তু বিজয়ের কাছে এই ব্যাখ্যা যথেষ্ট হয়নি। বরং নীরব অবস্থান তাঁকে আরও হতাশ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লাইভে বিজয় জানান, বিসিবি বা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তার আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমি এই লাইভটা করতাম না, যদি বিসিবিকে ফোনে পেতাম। আমি মেইলের মাধ্যমেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। যদি তারা রেসপন্স করতো তাহলে হয়তো এই লাইভটা করতে হতো না। কিন্তু এখন আর উপায় নেই। আমার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, নিউজের পর আমি ড্রাফট থেকে বাদ পড়লাম, এর কারণটা কী? আমি কি দোষী? দোষী হয়ে থাকলে প্রমাণ চাই।’

বিজয় আরও দাবি করেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে সত্যিই কোনো অভিযোগ থাকে, তবে শুধু বাদ নয়, বরং তাঁকে আজীবন নিষিদ্ধ করার সাহস দেখানো উচিত। তার ভাষায়, ‘সারা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ হয়ে বিসিবি, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে বলতে চাই... আমি যদি দোষী হয়ে থাকি, আমাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে দেন। আমি তো অনেকের পছন্দের খেলোয়াড় না, অনেকের কাছে ভালো সতীর্থও না। হয়তো অনেকের কাছে ভালো খেলোয়াড়ও না। তাহলে ঠিক আছে আমার আর খেলা লাগবে না। দোষী হয়ে থাকলে আমার আর খেলা লাগবে না।’

তিনি মানহানির বিষয়টিও জোর দিয়ে তুলে ধরেন। বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই আসলে সমাধানটা কী হবে। এটাই আমার পয়েন্ট। গত বছর যা হয়েছে তা তো হয়েছেই। আপনার কাছে যদি প্রমাণ থাকে আমাকে নিষিদ্ধ করে দেন। আমি খুশি মনে মেনে নেব। সারা বাংলাদেশের মানুষ জানুক আমি খারাপ, আমি অপরাধী, আমি ভালো মানুষ না। আর যদি না হয় তাহলে আমার এই সম্মান আপনাকে ফেরত দিতে হবে। আমার মানহানি যে হচ্ছে সেটা ফেরত দিতে হবে।’

কিন্তু বিজয়ের ক্ষোভ শুধু নিলাম থেকে বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে নয়। গত মৌসুম থেকে পাওয়া বকেয়া টাকা না পাওয়ার বিষয়টিও তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন। দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলা এই ব্যাটার বলেন, ‘বিপিএলে গত বছর ৫০ লাখের চুক্তি ছিল। ৩০ লাখ পাইনি। এক বছর যাঁরা বিপিএলের দায়িত্বে ছিলেন, অনেক ফোন করেছি, মেইল দিয়েছি। তাঁদের কাছে গিয়ে চেক দেখিয়েছি। রাজশাহী দলের চেক পড়ে আছে। কিন্তু টাকা নেই। এক বছর ধরে ৩০ লাখ টাকা পাইনি। এই টাকা কেন পাচ্ছি না, কারণ জানতে চাই।’

দলের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবকিছু জানলেও কেউ উদ্যোগ নেননি। তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর হয়ে যখন খেলছিলাম, ফারুক ভাই, আকরাম স্যার, মঞ্জু ভাই, মিঠু ভাইও ছিলেন। আমরা যে টাকা পাচ্ছি না, সবাই জানতেন। খেলা বয়কট না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। কথা ভুল বলে থাকলে ধরিয়ে দেবেন। কারও বিরুদ্ধে বলছি না। নিজের জন্য বলছি কথাগুলো। বিসিবি থেকে নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু করিনি। সেঞ্চুরির পরের দিন অধিনায়কত্ব ছেড়েছি।’

বিসিবি জানিয়েছে, দুর্নীতি দমন ইউনিটের পরামর্শে যেসব ক্রিকেটারের পাশে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ আছে, তাদের এবার নিলামে রাখা হয়নি। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্য কোনো ইভেন্টে প্রভাব ফেলবে না। তবুও বিজয়ের প্রশ্ন রয়ে গেছে-কেন তাঁকে অপরাধীর মতো আচরণ করা হলো?

লাইভের শেষ অংশে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাদ দেওয়ার কারণ জানান। ফোনে পাচ্ছি না তাদের। সামাজিক মাধ্যমের সুযোগ তাই নিতেই হবে। সমাধানটা কী হবে, জানতে চাই। গত বছর যা হয়েছে, সেটার প্রমাণ থাকলে আমাকে নিষিদ্ধ করুন। সারা বাংলাদেশের মানুষ জানুন যে আমি অপরাধী।’

আরও পড়ুন