ইরাকের জার্সিতে পাকিস্তানের জিদান ইকবালের ইতিহাস

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তান কখনও খেলেনি। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা দেশটির কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এতদিন শুধু দর্শক হিসেবেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আসর দেখেছে। তবে এবার সেই অপেক্ষার ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছেন জিদান ইকবাল। ইরাকের জার্সিতে মাঠে নেমে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। যদিও ম্যাচটি ৪-১ গোলে হেরে যায় ইরাক, তবু পাকিস্তানের ফুটবল ইতিহাসে দিনটি বিশেষ হয়ে থাকে। কারণ বিশ্বকাপে এটিই ছিল পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম উপস্থিতি।

ম্যানচেস্টারে জন্ম নেওয়া জিদান ইকবালের বাবা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সাহিওয়ালের বাসিন্দা এবং মা ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের। ফলে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান কিংবা ইরাক, তিন দেশের যেকোনো একটির প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ ছিল তার সামনে। শেষ পর্যন্ত ইরাকের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মাত্র আট বছর বয়সে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে। ২০২১ সালে ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলেও ইতিহাস গড়েন তিনি। পরে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব উটরেখটে যোগ দেন এবং ইরাকের বিশ্বকাপ বাছাই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তার গোলও দলকে বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল।

পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনও তার দিকে নজর রেখেছিল। তবে অবকাঠামো, পেশাদার কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সুযোগের দিক থেকে ইরাক অনেক এগিয়ে থাকায় জিদানের সিদ্ধান্তটা সহজ হয়ে যায়।

তবু পাকিস্তানের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তার বিশ্বকাপ অভিষেক একটি গর্বের মুহূর্ত। জিদান নিজেও বিশ্বাস করেন, তার এই যাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং দেখিয়ে দেবে যে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জন্যও বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন