ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী গল্পগুলোর একটি যেন নতুন মোড় নিতে চলেছে। স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসা কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার চোখের জল এবার জায়গা করে দিচ্ছে আনন্দের হাসিকে। যে আক্ষেপ তাকে ম্যাচ শেষে কাঁদিয়েছিল, সেই আক্ষেপই এখন পরিণত হচ্ছে পুনর্মিলনের অপেক্ষায়।
স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরা হন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। কিন্তু ব্যক্তিগত সাফল্যের আনন্দকে ছাপিয়ে যায় একটি কষ্ট, ভিসা জটিলতা ও অর্থসংকটের কারণে তার মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে ছেলের খেলা দেখতে পারেননি। সেই বেদনা প্রকাশ করতে গিয়েই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। ভোজিনিয়ার মা নিশ্চিত করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন এবং বিশ্বকাপে ছেলের খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবকিছু খুব দ্রুত ঘটছে, তবে তিনি ভীষণ খুশি। ঈশ্বর চাইলে তিনি ছেলেকে মাঠে দেখতে পারবেন, তাকে সমর্থন দিতে পারবেন এবং ম্যাচ শেষে জড়িয়ে ধরতে পারবেন।
ভোজিনিয়ার আবেগঘন গল্পটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাড়া ফেলে। বিষয়টি পৌঁছে যায় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজ-এর কাছেও। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। পরে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ভিসা ফি মওকুফ করা হয়েছে এবং ভ্রমণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে ভোজিনিয়ার মা সময়মতো ছেলের ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেফরিজ বলেন, কোনো মায়েরই তার সন্তানকে ইতিহাস গড়তে দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ভোজিনিয়ার মায়ের জন্য যাত্রার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং মা-ছেলের পুনর্মিলনের পথ সুগম করা হয়েছে।
স্পেন ম্যাচের পর ভোজিনিয়া জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় তিনি দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছেন। তারা আর বেঁচে নেই। আর্থিক সংকটের কারণে মায়েরও আসা সম্ভব হয়নি। সেই কষ্টই তাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।
তার জীবনযাত্রার গল্পও কম অনুপ্রেরণাদায়ক নয়। ২৫ বছর বয়সে, ২০১২ সালে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। অনেকের কাছে যে বয়স ক্যারিয়ারের মধ্যগগন, তার জন্য সেটিই ছিল শুরু। একসময় জাতীয় দল ছাড়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গেছেন, আর সেই পথ ধরেই পৌঁছে গেছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।
বর্তমানে পর্তুগালের ক্লাব শাভেস-এ খেলা ভোজিনিয়া দেশের হয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি আরেকটি কীর্তিও গড়েন, ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে কোনো দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশ নেওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হন তিনি।
এখন পুরো নজর আগামী রোববারের ম্যাচে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দল মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দল-এর। তবে ম্যাচের ফলের বাইরেও দর্শকদের চোখ থাকবে গ্যালারির দিকে। কারণ সেখানে উপস্থিত থাকবেন এক মা, যিনি বহু বাধা পেরিয়ে ছেলের স্বপ্নপূরণের মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। আর ভোজিনিয়ার জন্য সেটিই হতে পারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
বিশ্বকাপে এবার ড্রোন আতঙ্ক
পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার
আইভরি কোস্ট তারকার কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা