ব্রুনো ফার্নান্দেজকে ঘিরে রোনালদো ভক্তদের চাপ

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচ শেষ হয়েছে হতাশার ড্রয়ে। কিন্তু ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে হারানো দুই পয়েন্টের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে একটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগালের খেলার ধরন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একপক্ষের অভিযোগ, সতীর্থরা পর্যাপ্ত বলই দিচ্ছেন না রোনালদোকে। অন্যপক্ষ বলছে, ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডই এখন দলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। সেই বিতর্কের মাঝেই রোনালদোর প্রতি সমর্থকদের আবেগঘন আহ্বানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ।

ম্যাচের পর ব্রুনো নিজের সর্বশেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে হাজার হাজার মন্তব্য পান। সেখানে রোনালদো ভক্তরা তাকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি মাঠে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে দেন পর্তুগালের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডের জন্য।

একটি আবেগঘন মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এক্সে দ্য টাচলাইন জানায়, ব্রুনোর পোস্টে ২০ হাজারেরও বেশি মন্তব্য জমা পড়েছে। ভাইরাল হওয়া মন্তব্যে একজন সমর্থক লিখেছেন, ‘মাঠে নামার আগে মনে রাখুন, আপনাদের জন্য দরজাটা প্রথম খুলে দিয়েছিলেন কে। একটি পুরো প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন কে। সে (রোনালদো) পর্তুগালের প্রতিটি শিশুকে বিশ্বাস করিয়েছে যে তারাও একদিন ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে। সে পর্তুগালকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’

মন্তব্যে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় ২০০৪ ইউরোর ফাইনালে পরাজয়ের পর ১৯ বছর বয়সী রোনালদোর কান্না। ‘মনে রেখো সেই তরুণ ছেলেটির কথা, যে ইউরো ফাইনাল হেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। সবাই যখন মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তখন সে একা দাঁড়িয়ে ছিল ভাঙা হৃদয় নিয়ে। কারণ পর্তুগালের জার্সি তার কাছে ছিল সবকিছু।’ পাশাপাশি ২০০৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হারের হতাশার কথাও তুলে ধরা হয়।

বর্তমান পর্তুগাল দলকে উদ্দেশ্য করে সমর্থকটি লিখেছেন, ‘এটাই হতে পারে সেই একমাত্র ট্রফি জয়ের শেষ সুযোগ, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেবে। তাই তার জন্য লড়াই করো। তার জন্য দৌড়াও। মাঠে তোমাদের সবকিছু উজাড় করে দাও। জার্সির জন্য খেলো। তার জন্য সুযোগ তৈরি করো। তাকে বল দাও।’

ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল রোনালদোকে ঘিরে সতীর্থদের সিদ্ধান্ত। বহু সমর্থকের অভিযোগ, পর্তুগালের আক্রমণভাগে কয়েকটি সম্ভাবনাময় মুহূর্তে রোনালদোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ম্যাচের হাইলাইটস দেখলেই বোঝা যায় একাধিকবার তিনি ফাঁকা জায়গায় অবস্থান নিলেও বল তার কাছে পৌঁছায়নি।

অবশ্য বিপরীত মতও ছিল। অনেক সমর্থক রোনালদোর পারফরম্যান্সের সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘পর্তুগালের দশজন খেলোয়াড় আর একজন স্ট্যাচু।’ তাদের মতে, ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আগের মতো ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারছেন না।

তবে খেলা যারা পুরোটা দেখেছেন, তাদের অনেকের চোখেই ধরা পড়েছে অন্য একটি চিত্র। আক্রমণ গড়ার সময় পর্তুগালের কয়েকজন ফুটবলার যেন বারবার ভুলে যাচ্ছিলেন যে রোনালদোও মাঠে আছেন। ফলে বক্সের ভেতরে তার নড়াচড়া, অবস্থান কিংবা রান অনেক ক্ষেত্রেই কাজে লাগানো যায়নি। এ কারণেই সমর্থকদের একটি বড় অংশের বিশ্বাস, রোনালদোর ব্যক্তিগত ফর্মের পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতিও তার নিষ্প্রভ থাকার অন্যতম কারণ।

এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো রোনালদোর বয়স এবং ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায়। ৪১ বছর বয়সে সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলছেন তিনি। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় সব বড় শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। তাই অনেক সমর্থক বিশ্বাস করেন, এবার পুরো দলের উচিত তাকে ঘিরে সর্বোচ্চ সমর্থন দেওয়া, যাতে পর্তুগালের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার স্বপ্নের সেই ট্রফির আরও কাছে পৌঁছাতে পারেন।

AS
আরও পড়ুন