২০০৭ সালের বার্সেলোনার একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের ছবি এটি। যেখানে দেখা গিয়েছিল, তৎকালীন তরুণ লিওনেল মেসি পরম মায়ায় গোসল করাচ্ছেন এক শিশুকে। শিশুটির নাম লামিনে ইয়ামাল। দুই দশক পর সেই ছবির দুই চরিত্রই এখন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এবার তারা একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ—বিশ্বকাপের ফাইনালে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল নিজেই এই ছবি প্রসঙ্গে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, ফিনালিসিমায় খেলতে না পারলেও বিশ্বকাপের ফাইনালে যেন তিনি মেসির মুখোমুখি হতে পারেন। অবশেষে তরুণ এই স্প্যানিশ তারকার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফিফার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের অধিনায়ক এবং কোচরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফুটবল কিংবদন্তি রিও ফার্দিনান্দ এবং টেনিস মহাতারকা নোভাক জোকোভিচ। তাঁদের সঙ্গে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাস্কেটবল ও মেজর সকার লিগের তারকা টম ব্র্যাডি।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে টম ব্র্যাডি মেসিকে ইংরেজিতে ইয়ামালের সেই ঐতিহাসিক ছবিটির ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। ইংরেজি বুঝতে কিছুটা বেগ পাওয়ায় দোভাষীর সহায়তায় স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্নটি শোনেন মেসি এবং বেশ হাসিমুখে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
মেসি বলেন, সত্যি বলতে, এই ছবিটা এখন দেখতে খুব অদ্ভুত লাগে। এটাই আসলে জীবন! যখন আমি নিজেও খুব তরুণ ছিলাম, তখন এই ছবিটা তোলা হয়েছিল। আর আজ সেই শিশুটির বিপক্ষেই আমি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে যাচ্ছি, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
প্রতিপক্ষ ইয়ামালের প্রশংসা করে মেসি আরও বলেন, সে এখন বিশ্বসেরাদের একজন। স্পেনের হয়ে ইতিমধ্যেই ইউরো জিতেছে এবং বর্তমানে দারুণ ফর্মে আছে। ওর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। তবে ফাইনালে আমাদের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে এমনভাবে খেলা, যাতে সে মাঠে নিজের সেরা পারফরম্যান্সটা করতে না পারে।
কৈশোরে আর্জেন্টিনা ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানো মেসির জীবনের সোনালী সময় কেটেছে ন্যু ক্যাম্পে। অন্যদিকে ইয়ামালের ফুটবলার হয়ে ওঠার শুরুটাও বার্সেলোনা থেকেই। ফলে এই তরুণ ইয়ামালের প্রতি মেসির স্নেহটা একটু অন্যরকম।
বিষয়টি উল্লেখ করে মেসি বলেন, বার্সেলোনায় আমি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি, ওর সঙ্গেও পরিচয়টা ওখান থেকেই।
দুই যুগের ব্যবধানে সেই কোলের শিশুটির সঙ্গে আজ বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের লড়াইকে মেসি ‘ভাগ্যের এক অবিশ্বাস্য গল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মেগা ফাইনালের আগে মানসিক চাপ সামলানোর বিষয়ে ফুটবল জাদুকর জানান, তাঁরা মাঠে স্বাভাবিক ফুটবল খেলার ওপরই জোর দিচ্ছেন, কারণ খেলাধুলার মাঠে জয় কিংবা পরাজয়—দুইটাই খুব স্বাভাবিক বিষয়।
মেসির ফুটবল মস্তিষ্ক সবার চেয়ে ১০ সেকেন্ড এগিয়ে!
কোন জার্সি পরে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা?
না ফেরার দেশে কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স