পৃথিবীর শেষ কোথায়!

পৃথিবীর শেষ সীমানা নিয়ে বিশ্ববাসীর কৌতুহলের শেষ না থাকলেও  বছর কয়েক আগে জানা গেছে ইউরোপের ই-৬৯ হাইওয়ে হলো পৃথিবীর শেষ রাস্তা। যেটি নরওয়েতে অবস্থিত।

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:২৫ পিএম

গোলাকার পৃথিবীর একেক দিকে একেক দেশ অবস্থিত হলেও এর শেষ কোথায়, এমন প্রশ্ন মাথায় আসতেই পারে। বিশেষ করে অভিযান প্রিয় মানুষদের। পৃথিবীর শেষ সীমানা নিয়ে বিশ্ববাসীর কৌতুহলের শেষ না থাকলেও বছর কয়েক আগে জানা গেছে ইউরোপের ই-৬৯ হাইওয়ে হলো পৃথিবীর শেষ রাস্তা। যেটি নরওয়েতে অবস্থিত।

ই-৬৯ হাইওয়ে, এটি এমন একটি রাস্তা যা উত্তর মেরুর কাছে গিয়ে শেষ হয়। এই মহাসড়কটি পৃথিবীর অন্যতম নির্জন ও অদ্ভুত প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলে, যা একে পৃথিবীর শেষ রাস্তা হিসেবে পরিচিত করেছে। এটি নরওয়ের উত্তরাঞ্চলের হোনিংসভাগ থেকে শুরু হয়ে নর্ডক্যাপ পর্যন্ত বিস্তৃত। নর্ডক্যাপ ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের উত্তরতম বিন্দু হিসেবে পরিচিত। এই রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৯ কিলোমিটার এবং এটি বেশিরভাগই বরফাচ্ছন্ন, তুষারাবৃত প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলে।

ই-৬৯ পেরোতে গেলে পাঁচটি টানেল পেরোতে হয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ টানেলটির নর্থ কেপ। আর এর দৈর্ঘ্য প্রায় সাত কিলোমিটার। এটি গিয়ে পৌঁছোয় সমুদ্রতলের প্রায় ২১২ মিটার নিচে। এই পথ দিয়ে গেলে দু’পাশে নজরে আসবে অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য। সঙ্গে থাকবে সমুদ্র ও বরফ।

তবে পৃথিবীর শেষ পথটিতে একা যাওয়া নিষেধ। কারণ ই-৬৯ এর অভিনব ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এখানে কাউকে একা যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না। সেখানে একদিকে যেমন ভয়ানক গতিতে বাতাস বয় তেমনই এখানে প্রচুর ঠাণ্ডা। যেখানে আবহাওয়াও একেবারে অনিশ্চিত। গ্রীষ্মকালেও সেখানে বরফ পড়ে।

ছবি: সংগৃহীত

আবার সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে যায়। শীতের সময় এই রাস্তা একেবারেই বন্ধ থাকে। এসব কারণেই সেখানে একা যাওয়া বারণ।

নরওয়ের ই-৬৯ মহাসড়কটি তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৩০ সাল নাগাদ। তবে ১৯৩৪ সালে মহাসড়কটি তৈরির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রাস্তার সম্প্রসারণ হয়েছে ধীরে ধীরে। বর্তমানে এই রাস্তার দৈর্ঘ্য ১২৯ কিলোমিটার যা সম্পূর্ণ হয়েছে ১৯৯২ সালে। তারপর থেকে সেভাবেই চলছে। সবশেষ পরিকল্পনায় সড়কটি আর না বাড়ানোর পক্ষেই কর্তৃপক্ষ।

নিশিরাতের দেশ হিসেবে পরিচিত নরওয়েতে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২৬ থেকে মাইনাস ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করে। এমনিতেই সেখানে বছরের ছয় মাস দিন আর ছয় মাস রাত। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ নর্থপোল দেখতে আসেন। এ যেন এক ভিন্নতর জগৎ।

RA
আরও পড়ুন