নব্বইয়ের দশকের সেই পিক্সেল ঘরানার গেম ‘রুনস্কেপ’ (RuneScape) ২০২৫ সালে এসে বিশ্বজুড়ে গেমিং দুনিয়ায় নতুন এক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা এই অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমটি বর্তমানে নিজের ২৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময় পার করছে। আধুনিক সব উচ্চমানের গ্রাফিক্সের গেমকে টেক্কা দিয়ে এটি এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জ্যাজেক্স’ (Jagex)-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই এর পেইড মেম্বার সংখ্যা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ বিনামূল্যে গেমটি উপভোগ করছেন। সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে একসঙ্গে ২ লাখ ৪০ হাজার খেলোয়াড় গেমে লগইন করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন, যা জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম স্টিমের শীর্ষ গেমগুলোর কাতারে রুনস্কেপকে নিয়ে এসেছে।
রুনস্কেপ কেবল একটি গেম নয়, অনেকের জন্য এটি জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয় ইউটিউবার ‘দ্য আর এস গাই’ (The RS Guy) রায়ান জানান, তিনি তার স্ত্রীকে এই গেমের মাধ্যমেই খুঁজে পেয়েছেন। গেমের ভেতরে বিভিন্ন মিশন সম্পন্ন করতে গিয়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব অনেক সময় বাস্তবে পরিণয়ে গড়ায়। কমিউনিটির এই গভীর বন্ধনই গেমটিকে দুই দশক ধরে টিকিয়ে রেখেছে।
দুটি সংস্করণের জনপ্রিয়তা
- আধুনিক গ্রাফিক্স সমৃদ্ধ সংস্করণ।
- ২০০৭ সালের আদলে তৈরি এই সংস্করণটি বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ‘এমএমও’ (MMO) গেম।
গেম ডিজাইনার মলি মেসনের মতে, এর সাফল্যের মূলে রয়েছে ‘রুনস্কেপিনেস’ যেখানে ব্রিটিশ রসিকতা আর মন্টি পাইথন ধাঁচের হাস্যরস খেলোয়াড়দের বারবার টেনে আনে।
আধুনিক অনেক গেমিং কোম্পানি যখন ইন-গেম কেনাকাটার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত, জ্যাজেক্স তখন হাঁটছে ভিন্ন পথে। খেলোয়াড়দের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গেম থেকে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা (Microtransactions) তুলে নেওয়া হয়েছে। জ্যাজেক্সের সিইও জন বেলামি বলেন, ‘আর্থিক ঝুঁকি থাকলেও আগামী ১০-১৫ বছরের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা খেলোয়াড়দের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছি।’ এই সাহসী সিদ্ধান্ত গেমটির প্রতি খেলোয়াড়দের আস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পঁচিশ বছর আগে তৈরি সেই ভার্চুয়াল চরিত্রগুলো আজও খেলোয়াড়দের জন্য একই প্রতীক্ষায় থাকে। নস্টালজিয়া আর সঠিক কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট থাকলে একটি গেম যে কখনও পুরনো হয় না, রুনস্কেপ আজ তারই জীবন্ত প্রমাণ।
সূত্র: বিবিসি
চ্যাটজিপিটিতে এখন অ্যাপল মিউজিক
এআই শিল্পের জাদুকর রেফিক আনাদোল
