সুশাসনের অভাবে দেশ থেকে পাচার হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা: গভর্নর

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

ব্যাংকিং খাতে গভর্ন্যান্সের চরম ব্যর্থতা এবং ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ না থাকায় দেশ থেকে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি নির্দেশে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঋণ দেওয়ার ফলে দেশের ব্যাংক খাতের ভিত নষ্ট হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোকবক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের মূল সমস্যা হলো সুশাসনের অভাব। অতীতে সরকার এবং প্রভাবশালী পরিবারগুলোর নির্দেশে অনেক ঋণ দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতি ছিল, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে ৫টি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের মালিকানা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির হাতে চলে যাওয়ায় কোনো জবাবদিহি ছিল না। এর ফলেই তিন লাখ কোটি টাকার মতো বিশাল অঙ্কের অর্থ বিদেশে চলে গেছে।’

ব্যাংকের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৪টি ব্যাংক রয়েছে, যা অর্থনীতির আকারের তুলনায় অনেক বেশি। ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলে দেশের জন্য যথেষ্ট হতো। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছে ও লাভজনকতা কমছে। সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান।’

অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘একটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং খাতকে বর্তমান গভর্নর টেনে তোলার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীরা যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশকে নতুন পথ দেখিয়েছে, সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি।’

লোকবক্তৃতায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং সদস্যসচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

DR/FJ
আরও পড়ুন