গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা এবং গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে অভিহিত করায় প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স ও দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শোকজপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— বাংলাদেশ ব্যাংক নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে শোকজের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়। বিশেষ করে এক্সিম ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া, নিয়ম ভেঙে ‘বিকাশ’কে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার তোড়জোড় চলছে বলেও দাবি করেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তারা বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় মুখ খুলেছেন। অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন।’

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম বা জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমতি নিতে বাধ্য। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের আলোচ্য বিষয় প্রকাশ্যে আনা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মন্তব্য করেছেন, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।

শোকজের জবাব পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

DR
আরও পড়ুন