কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ও উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ ১০৩ দশমিক ২৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, মার্কিন তেলের মানদণ্ড ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI)-এর দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর বিধিনিষেধ। প্রতিদিন বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী অন্তত ১২টিরও বেশি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। একের পর এক হামলার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেব রয়টার্সকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক তেলের বাজার বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে সামনের দিনগুলোতে বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা ও দাম আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয় কারণ এটি ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেল পশ্চিমা বিশ্বে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। ফলে এই পথ বন্ধ থাকা মানে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড় ধরণের ধাক্কা।’ সূত্র : রয়টার্স
ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্রে মার্কিন হামলা, উত্তাল বিশ্ববাজার
হরমুজ প্রণালি দ্রুত না খুললে তেলের বাজারে বিপর্যয় নেমে আসবে: আরামকো
