ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান (J.P. Morgan) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী মে মাসেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জেপি মরগানের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছাবে। তবে এই অচলাবস্থা যদি মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম ১৫০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে আঘাত করছে। সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মজুত কমে যাওয়ায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকজুড়ে (এপ্রিল থেকে জুন) তেলের দাম গড়ে ১০০ ডলারের ওপরে থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেলের এই আকাশচুম্বী দাম বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্য বজায় থাকলে শিল্পোৎপাদন খরচ বাড়বে এবং বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। এতে জ্বালানির সামগ্রিক চাহিদাও নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই অনমনীয় অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের লেনদেন আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া না হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধেও জ্বালানির বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। সূত্র: রয়টার্স

