যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তায় ডলারের বাজারে অস্থিরতা

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, এই অনিশ্চয়তা এখন সরাসরি আঘাত হানছে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, আর তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মার্কিন ডলারের নড়বড়ে অবস্থানে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। ‘ডলার ইনডেক্স’, যা বিশ্বের ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি নির্দেশ করে, তা বর্তমানে ৯৯ দশমিক ০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে থাকায় ডলারের বড় ধরনের দরপতনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মুদ্রাবাজারে এর প্রতিফলনও স্পষ্ট। ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৬৬১ ডলারে। একইভাবে জাপানি ইয়েনের মানও কমেছে; ডলারের বিপরীতে তা দাঁড়িয়েছে ১৫৮ দশমিক ৮১ ইয়েনে।

এই আর্থিক অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে রয়েছে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন। বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বোমাবর্ষণ ও সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত এসেছে শেহবাজ শরীফ এবং অসিম মুনির-এর অনুরোধে। তবে যুদ্ধবিরতি শর্তসাপেক্ষ, ইরানকে হরমুজ প্রণালি ‘তাৎক্ষণিক, নিরাপদ ও সম্পূর্ণভাবে’ খুলে দিতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির পথে অনেক দূর অগ্রগতি হয়েছে।

ট্রাম্পের মতে, ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করেছে এবং অতীতের অনেক বিরোধপূর্ণ বিষয়েও দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে।

এই ঘোষণাটি আসে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা আগে, যা পরিস্থিতির নাটকীয়তা আরও বাড়িয়ে তোলে।

এর আগে, যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল হওয়ার সুযোগ দিতে সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হোক। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে এই সময় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ শরীফ লিখেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরালোভাবে এগোচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

AS/AHA
আরও পড়ুন