বিশ্ববাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, তীব্র মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সুদের হার আরও বাড়াতে হতে পারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে। 

বুধবার (২০ মে) ডলারের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির ও ডলারের এই বাড়তি দামের কারণে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। ফলে বৈশ্বিক বন্ডবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। এই যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং প্রাথমিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০.৮ ডলারে স্থির রয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে অনেক বেশি।

বর্তমানে প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলার ইনডেক্স ৯৯.৩০৬ পয়েন্টে স্থির আছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধি এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন প্রত্যাশায় মে মাসে সূচকটি ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের বেশি।

ডলারের বিপরীতে আজ ইউরোর দাম ১.১৬০৮ ডলার এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ১.৩৩৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, অস্ট্রেলীয় ডলার ০.১৪ শতাংশ কমে ০.৭০৯৭ ডলারে এবং নিউজিল্যান্ডের ডলার ০.২৪ শতাংশ কমে ০.৫৮Mj ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে জাপানি ইয়েনের মান আবারও প্রতি ডলারে ১৬০-এর কাছাকাছি চলে এসেছে। সর্বশেষ প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ছিল ১৫৯.০৩, যা ৩০ এপ্রিলের পর সবচেয়ে দুর্বল। এর আগে গত মাসে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল জাপান। বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিকভাবে ডলারের শক্তি না কমলে সরকারি পদক্ষেপে হয়তো সাময়িকভাবে ইয়েনের পতনের গতি কমবে, কিন্তু মূল প্রবণতা বদলাবে না।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার ও জ্বালানির দাম বাড়ায় বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাবে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকির পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, টাকার মান এবং শিল্প উৎপাদনেও নেতিবাচক চাপ বাড়তে পারে।

SN
আরও পড়ুন