বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১২:০৯ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের আগে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রির হিড়িকের (সেল-অফ) পাশাপাশি চলতি বছর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর জোরালো সম্ভাবনায় চাপের মুখে পড়েছে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতু।

 

নিউ ইয়র্ক সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (হাজির বাজার) দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,২৯৮.৭৫ ডলারে নেমে আসে, যা দিনের শুরুর দিকে ১ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছিল। একই সাথে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের (আগস্ট ডেলিভারি) দামও ০.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে আউন্স প্রতি ৪,৩২৩.৯০ ডলারে দাঁড়ায়। 

 

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আরজেও ফিউচার্সের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন জানান, মূল্যস্ফীতির রিপোর্টের আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে এবং পুরো বাজারজুড়ে ‘রিস্ক-অফ’ বা ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা চাঙ্গা হওয়ায় স্বর্ণের দামে এই পতন দেখা দিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে সুদের হারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা না আসা পর্যন্ত স্বর্ণ ও রূপার বাজার এমন চাপের মধ্যেই থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর এখন বিনিয়োগকারীদের সব নজর চলতি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দিকে। বিশেষ করে বুধবারের (১০ জুন) কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা ভোক্তা মূল্যসূচক এবং বৃহস্পতিবারের (১১ জুন) প্রোডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) বা পাইকারি মূল্যসূচকের ডেটা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। 

 

জার্মানির কমার্সব্যাংক এক নোটে জানিয়েছে, মে মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আসে, তবে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী ডিসেম্বরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রায় ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন।

 

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইতিবাচক হাওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরান ও ইসরাইল পরস্পরের ওপর হামলা বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। সাধারণত তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখতে হয়। 

 

উচ্চ সুদের হারের কারণে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কমে যায়। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভার বা রূপার দাম ৩.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫.৯৮ ডলারে নেমেছে, প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১,৭৩৬.০৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,২৩৪.৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।

HN
আরও পড়ুন