২০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে ঢাকায় হবে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

বাংলাদেশে আয়োজিত অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬ আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আয়োজনে ২০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতের অংশীজনরা অংশ নেবেন। একই প্ল্যাটফর্মে ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ট্যুরিজম বোর্ডসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে আয়োজকদের।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের শীর্ষ সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোই মেলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এবারের বিটিটিএফের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিটিটিএফ ২০২৬-এর আয়োজনের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরতে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টোয়াব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল থাকবে। এতে ২২০টিরও বেশি একজিবিটর, ২৫০ জনের বেশি কোয়ালিফাইড বায়ার এবং ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটর অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া মেলায় ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে।

মেলার চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০টিরও বেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নেবে। ফলে বিটিটিএফ ২০২৬ পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলার সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

এ ছাড়া মেলার সফল ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের সঙ্গে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকছে। প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট। পিআর পার্টনার হিসেবে থাকছে ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলজি পার্টনার এম৩৬০আইসিটি এবং ট্রান্সপোর্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে কনভয় সার্ভিস।

এবারের বিটিটিএফে ২০টিরও বেশি দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও ফিলিপাইনের অংশগ্রহণকারীরা মেলায় নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান থেকেও পর্যটন খাতের অংশীজনদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন অংশীদারদের এই অংশগ্রহণের ফলে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্যের প্রচার, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৩ বারের বেশি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন বাজারে পরিণত হয়েছে। একই জায়গায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিয়ে আসার মাধ্যমে মেলাটি নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের বিটিটিএফ বৈশ্বিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। প্রদর্শনী, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বা বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) নেটওয়ার্কিং, বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের প্রচার এবং অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের পর্যটন শিল্পের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখাই মেলার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যটন সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করতেও এবারের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন