বাগেরহাটের মোংলা বন্দর শিল্প এলাকায় দুবাই বাংলা এলপিজি গ্যাস লিমিটেডের এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট ঘিরে নিরাপত্তা বিধি, অনুমোদিত নকশা এবং পরবর্তী সময়ে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এলপিজি গ্যাসাধারের নির্ধারিত নিরাপত্তা দূরত্বের মধ্যেই অনুমোদন ছাড়াই একটি সিমেন্ট কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এতে এলপিজি সংরক্ষণ ও বটলিং কার্যক্রমের পাশাপাশি আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানও সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুবাই বাংলা এলপিজি গ্যাস লিমিটেডের প্লট নম্বর আই-১৯/এ, মোংলা বন্দর শিল্প এলাকা। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, এলপিজি মজুদ ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের সময় নিরাপত্তা দূরত্ব নিয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তরও প্রশ্ন তুলেছিল এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চেয়েছিল।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ২৬ নভেম্বর ২০১৭ সালের একটি চিঠিতে দুবাই বাংলা এলপি গ্যাস লিমিটেডের পরিচালককে এলপিজি মজুদ ও সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তির বটলিং প্ল্যান্টের লাইসেন্স মঞ্জুরের বিষয়টি জানানো হয়। ওই চিঠিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিধিমালা, ২০০৪-এর বিধি-৭৯-এর সারণি-১ ও ২ অনুযায়ী নির্ধারিত নিরাপত্তা দূরত্ব বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়।
নথিতে বলা হয়, ভূ-উপরিস্থ গ্যাসাধারে ২০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি মজুদের ক্ষেত্রে ১২০ মিটার এবং ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মজুদের ক্ষেত্রে ৯০ মিটার নিরাপত্তা দূরত্ব বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। তবে দুবাই বাংলা এলপি গ্যাস লিমিটেডের দাখিল করা নকশায় প্রস্তাবিত গ্যাসাধারের দক্ষিণ পাশে ৬৩ দশমিক ৬ মিটার এবং উত্তরে ৬৫ দশমিক ২ মিটার দূরত্ব দেখানো হয়। সেখানে নিরাপত্তা দূরত্ব কমানোর যুক্তি হিসেবে ‘ফায়ার রেটেড ওয়াল’ বা অগ্নিপ্রতিরোধী দেয়ালের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়েই আপত্তি তোলে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে ফায়ার রেটেড ওয়াল ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এমনকি ওই দেয়ালের ড্রইং বা ডিজাইনও দাখিল করা হয়নি। দেয়ালটি কোন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোড বা স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নির্মাণ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। এ ছাড়া এত বড় ও বিস্ফোরণ প্রতিরোধে সক্ষম ফায়ার রেটেড ওয়াল নির্মাণে অভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সমঝোতা চুক্তি রয়েছে কি না, তাও জানতে চেয়েছিল বিস্ফোরক অধিদপ্তর।
অভিযোগ রয়েছে, এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের সময় প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী নিরাপত্তা দূরত্ব প্রায় ১০০ মিটার রাখার বিধান থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে তা কমিয়ে প্রায় ৬৬ দশমিক ২ মিটার অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের পর সেখানে নির্ধারিত নিরাপত্তা এলাকার মধ্যে একটি সিমেন্ট কারখানা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এলপিজি প্ল্যান্টের সীমানার ভেতরে এবং পাশের ডেল্টা এলপিজি প্ল্যান্টের বাউন্ডারি ওয়ালের কাছাকাছি ওই সিমেন্ট কারখানার স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় এলপিজি সংরক্ষণ ও বটলিং কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন স্থাপনাটির অবস্থান সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়ে থাকলে সেটি কীভাবে অনুমোদন পেল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা পরিদর্শন করেছে কি না এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলপিজি ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণকারী স্থাপনায় অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিস্ফোরক অধিদপ্তর এলপিজি বিধিমালা, ২০০৪-এর আওতায় গ্যাসাধারে এলপিজি মজুদ এবং সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তির বটলিং প্ল্যান্টের লাইসেন্স দিয়ে থাকে।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের স্থাপনার অনুমোদিত নকশায় মজুদ ট্যাংক, ফিলিং শেড, পাম্প, ভাল্ব, নিষ্কাশন ব্যবস্থা, গ্যাস নির্গমন নলসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ থাকার কথা।
তিনি বলেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে পরবর্তী সময়ে কোনো দাহ্য, অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ বা শিল্প স্থাপনা তৈরি করা হয়ে থাকলে সেটি অনুমোদিত কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন হয়েছে কি না এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না—তা যাচাই করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। বড় পরিমাণ এলপিজি সংরক্ষণাগারের আশপাশে অগ্নির উৎস বা অন্য কোনো শিল্প স্থাপনা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন বা বিস্ফোরণ আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। এ কারণে এলপিজি প্ল্যান্টের নির্ধারিত নিরাপত্তা দূরত্ব, অনুমোদিত নকশা এবং পরবর্তী সময়ে নির্মিত স্থাপনাগুলো বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে দুবাই বাংলা এলপিজি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বিধি মেনে সরকার থেকে অনুমোদন নিয়েই গ্যাস প্ল্যান্ট পরিচালনা করছি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক নয়। এছাড়া আমাদের এখানে অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো সিমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়নি।
ডিএমপির ২ ডিসিকে বদলি
শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বরখাস্ত
সৌদিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবায় নতুন নির্দেশনা