চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উল্লেখ্য মাসগুলোতে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৯.২৬ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সংশোধিত এডিপি বরাদ্দের ৪৯.২৬ শতাংশ বা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে সরকার।
সোমবার (২৭ মে) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। ফলে দুই মাসে খরচের টার্গেট ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এ সময়ে গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে।
আইএমইডি জানায়, একই সময়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০.৩৩, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৪.৫৭, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৯.০৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯.১৩ শতাংশ।
গত ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এগিয়ে রয়েছে, বাস্তবায়ন হার ৯৬.৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ৮৩.১৪ শতাংশ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬৬.৪৭ শতাংশ, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬৭ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ৬৮.২৯ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৯.৭৮ শতাংশ ও বেসরকারি বিমান ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার ৫৪.৪৯ শতাংশ।
কৃষি মন্ত্রণালয় ৫৮.৮১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। তবে, সবচেয়ে বেহালদশা দেখা গেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে। এডিপি বাস্তবায়ন হার মাত্র ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এডিপি বাস্তবায়ন হার মাত্র ২২.৮৮ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (এনইসি) সভায় জুলাই-এপ্রিল সময়ের এডিপি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। সভা শেষে আইএমইডি সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হার কম হলেও অর্থবছরের বাকি সময়ে বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।