আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের একটি মজ্জাগত লোভ আছে। এক রমজান মাসে যা আয় করবে পরবর্তী এগার মাস সেই আয়ে চলবে। তাই রোজাদারদের ইফতারি খেকে শুরু করে সেহরিতে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ইচ্ছেমত হাকা হয়। রমজানের এই দুরাবস্থা যারা তৈরি করেন তারা নিজেরাও রোজাদার আবার রমজানের শিক্ষা নিতে অন্যকে উৎসাহিত করেন।
যদিও রোজা মানে উপবাস নয় এটি সিয়াম সাধনা। সবধরনের লোভ লালসা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার শিক্ষা হচ্ছে রমজান। অথচ দেশের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে মাল বিক্রি করে জামাত ছুটে যাচ্ছে এই কথা বলতে বলতে তারা মসজিদ মুখী হন। তাইতো রমজানে দুধ চিনি, পাকা কলা থেকে শুরু করে আমদানিকৃত খেজুর নিয়েও চূড়ান্ত ব্যবসা চলে।
এদিকে, কয়েক মাস ধরে অস্থির থাকা তেল ও চালের বাজারে ফেরেনি স্বস্তি। সেই সঙ্গে রমজানের আগে নতুন করে বেড়েছে লেবু দামও। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
রমজান মাস আসতে এখনো বাকি এক সপ্তাহ। কিন্তু তার আগেই ইফতার সামগ্রীর অন্যতম উপাদান লেবুর দাম বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে, আরও বাড়ার শঙ্কা।
বাজারে ঘুরে দেখা যায় বড়ো সাইজের এলাচি লেবু ১ হালি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাঝারি সাইজের সিলেটি লেবুও বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা দরে।
জানা গেছে, এক মাস আগেও যেই লেবু বিক্রি করা হয়েছে ৩০ টাকা দরে; তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তবে লেবুর দাম বাড়ায় আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কমেছে।
বিক্রেতারা জানান, যেখান থেকে তারা লেবু কিনে আনেন সেখানেই দাম বেড়েছে। এজন্য তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বেশি শুনে অনেক ক্রেতা লেবু না কিনে চলে যায়। এক মাস আগেও এই লেবু তারা ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
বিক্রেতারা আরও জানান, রমজান মাসে সব সময় লেবুর দাম বেশি থাকে। এবার রোজা আসার আগেই লেবুর দাম বেড়ে গেছে। তবে এখন লেবুর সিজন না হওয়ার কারণেও দাম বেড়েছে। রমজান মাসে লেবুর দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানান এই বিক্রেতা।
আজকে বাজারে টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়, হাঁসের ডিম ২৪০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকা কেজি, দেশী মোরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা। এছাড়া ৭৫০-৮০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস এবং ছাগলের মাংস ১১০০ টাকায়।
