পরিবেশবান্ধব কারখানায় বিশ্বে রোল মডেল বাংলাদেশ

আপডেট : ১৪ মে ২০২৫, ০৩:৪৪ এএম

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে যুক্ত হলো নতুন এক গৌরবময় অধ্যায়। গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত তাসনিয়া ফেব্রিক্স লিমিটেডের অ্যাডমিন ভবন অর্জন করেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটের লিড সনদপ্রাপ্ত ভবনের মর্যাদা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) প্রদত্ত এই সনদ অনুযায়ী ভবনটি লিড ভি৪ রেটিং সিস্টেমে পেয়েছে ১০৭ পয়েন্ট, যা এখনও পর্যন্ত বিশ্বে সর্বোচ্চ।

এর আগে এস.এম সোরসিং ১০৬ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে ছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে তাসনিয়া ফেব্রিক্স।

সম্প্রতি আরও দুটি কারখানা লিড সার্টিফায়েড তালিকায় যুক্ত হয়েছে— তাসনিয়া ফেব্রিক্সের নিজস্ব আরএমজি বিল্ডিং (১০৬ পয়েন্ট) এবং টাঙ্গাইলের গরইয়ে অবস্থিত কমফিট গোল্ডেন লিফ (৮০ পয়েন্ট)। তিনটি কারখানাই প্লাটিনাম স্তরের সনদ পেয়েছে।

এর ফলে দেশে লিড সার্টিফায়েড পোশাক কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৩টিতে। এর মধ্যে ১০১টি প্লাটিনাম এবং ১২৮টি গোল্ড সার্টিফায়েড। শুধু তাই নয়, বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সবুজ কারখানার মধ্যে ৬৮টিই এখন বাংলাদেশের। এটি দেশের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের এক অনন্য মাইলফলক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনায় বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক রোল মডেল। একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে তোলা ও সর্বোচ্চ মান রক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সবুজ কারখানার অর্থনৈতিক সুবিধাও চোখে পড়ার মতো। শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, পরিবেশবান্ধব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের গায়ে ‘গ্রিন ট্যাগ’ যুক্ত থাকে, যা বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাড়তি আস্থা তৈরি করে। ফলে এসব পণ্য দরকষাকষিতে সুবিধা পায় এবং দেশের ব্র্যান্ড ইমেজও সমৃদ্ধ হয়।

মূলত, বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল-ইউএসজিবিসি। তারা ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিড হলো লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন।

সাধারণ কারখানা বা স্থাপনার তুলনায় পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় গড়ে ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ব্যয় হয়। এছাড়া লিড সনদ পেতে একটি ভবনকে নির্মাণের প্রতিটি স্তরে অন্তত ৯টি কঠোর পরিবেশগত শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ধরনের সনদ শুধু নতুন ভবনের ক্ষেত্রেই নয়, পুরনো ভবন সংস্কারের পরও অর্জন করা যায়।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসজিবিসি বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠান, যারা নির্মাণকাজে পরিবেশ ও জ্বালানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে ‘সবুজ ভবনের’ মান নির্ধারণ করে। তাদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ, কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করলেই এই সনদ মেলে।

MMS
আরও পড়ুন