কাল থেকে ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি মৌসুমের শেষদিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। এরপর নতুন কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকে। তবে এবার সরকার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করে। নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দ্বীপে রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল। ফলে ভরা মৌসুমেও প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি দ্বীপের পর্যটননির্ভর মানুষজন।

দ্বীপবাসীর আশঙ্কা, টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকায় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তদের জীবিকায় বড় ধরনের সংকট দেখা দেবে।

১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক গেলেও আয় হয়নি

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার পর্যটক করে কক্সবাজার থেকে জাহাজে করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। তবে সময়সীমা কমানো ও বিভিন্ন বিধি-নিষেধের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্য আয় করতে পারেননি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, ‘আজ শেষবারের মতো সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ সব পর্যটক নিয়ে যাতায়াত করবে। আগামীকাল থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘লাভ তো দূরের কথা, লোকসানে পড়েছি’

সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো পাওনা আদায় করতে পারেননি। অধিকাংশই লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন। ‘কাল থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে,’ বলেন তিনি।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দ্বীপের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে পর্যটনখাতের সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো গেলে আগামী নয় মাস পার করা সহজ হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘ঋণ করেছি, শোধ করব কীভাবে’

দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, পর্যটক না থাকলে আবার মাছ ধরায় ফিরতে হবে। “রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছি। দুই মাসেও সেই টাকা তুলতে পারিনি। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব,” বলেন তিনি।

কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এবার আমরা কোনো আয়ই করতে পারিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ, বাইরের বিনিয়োগকারী ও কিছু হোটেল মালিকের সিন্ডিকেট গলাকাটা বাণিজ্য করেছে। তার ওপর সরকারের বিধি-নিষেধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয়রা। ৯ মাস পর্যটক বন্ধ থাকলে দুর্দিন আরও বাড়বে।’

সময় বাড়ানোর দাবি

দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত আরও চার মাস বা কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কড়াকড়ি নির্দেশনা বহাল

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।

এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

NB/FJ
আরও পড়ুন