মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বদলে গেছে পুরো অঞ্চলের চিত্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই যুদ্ধ এখন এক ডজন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপের দেশ সাইপ্রাস থেকে শুরু করে জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলো এখন রকেট ও ড্রোন হামলার কবলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই হামলা আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যারা মধ্যপ্রাচ্যে আছেন বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য দেশভিত্তিক সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরা হলো:
সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই ও আবুধাবি):
সবচেয়ে নিরাপদ মনে করা আমিরাতেও এখন ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ছে। বিশ্বের ব্যস্ততম দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তিন দিন বন্ধ থাকার পর ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতিহাদ ও এমিরেটস এয়ারলাইন্স সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করেছে। আমিরাত সরকার দেশটিতে আটকে পড়া ২০ হাজার ২০০ যাত্রীর থাকা-খাওয়ার খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এখনো আমিরাত ভ্রমণে ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি রেখেছে।
সৌদি আরব:
রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলার পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ বা ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও চালু আছে, যা বর্তমানে এই অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।
কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন:
কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় দোহা হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও অচল। ইরান থেকে আসা বেশ কিছু ড্রোন কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। কুয়েত ও বাহরাইনেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই দেশগুলো থেকে নাগরিকদের দ্রুত চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েল ও লেবানন:
টানা কয়েক দিন ধরে দুই দেশেই বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। তেল আবিবের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর হুমকির মুখে মার্কিন দূতাবাস তাদের জরুরি কর্মী ছাড়া বাকিদের সরিয়ে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা সরাসরি এই দুই দেশে ‘ভ্রমণ না করার’ (Do not travel) পরামর্শ দিয়েছে।
ওমান ও জর্ডান:
ওমানের দুকুম বন্দরে ড্রোন হামলা সবার জন্য বিস্ময়কর ছিল। বর্তমানে আমিরাত থেকে অনেকে সড়কপথে ওমান হয়ে ফেরার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, জর্ডানের আম্মানে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য খালি করা হয়েছে এবং সেখানে রাতে আকাশসীমা বন্ধ রাখা হচ্ছে।
সাইপ্রাস ও মিশর:
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটিতে (RAF) ড্রোন হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধের পরিধি ইউরোপ পর্যন্ত নিয়ে গেছে। মিশরে সরাসরি হামলা না হলেও আমেরিকানদের দেশটি ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, মিশরে এখনো বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ও বিমান চলাচলের সময়সূচি প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হচ্ছে। কোনো দেশে যাওয়ার আগে নিজ দেশের দূতাবাসের ভ্রমণ নির্দেশনা এবং এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ নিশ্চিত করুন। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
২ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯ ড্রোন ভূপাতিত করলো সৌদি আরব
ইরান যুদ্ধের কারণে সাইবার হামলার শঙ্কা
২০ হাজার ডলারের ড্রোনের মোকাবিলায় ৪ মিলিয়ন ডলারের মিসাইল!
