বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিতে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। দেশটির সরকারি নীতিনির্ধারক সংস্থা ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন’ (এনডিআরসি) বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক লিখিত আদেশের মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানায়।
এনডিআরসি-র নির্দেশ অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোল, গ্যাসোলিন, ডিজেল এবং উড়োজাহাজে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি (জেট ফুয়েল) রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা পুরো মার্চ মাস জুড়ে কার্যকর থাকবে। মাসের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব জ্বালানিবাহী চীনা কার্গো জাহাজ ১১ মার্চ পর্যন্ত কাস্টমস ছাড়পত্র পায়নি, সেগুলো আর বন্দর ছাড়তে পারবে না। একইসঙ্গে দেশটির তেল পরিশোধনকারী উদ্যোক্তাদের নতুন কোনো অর্ডার না নিতে এবং সম্ভব হলে পুরোনো অর্ডারগুলো বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনের কোনো নিজস্ব তেলখনি না থাকলেও দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এবং অন্যতম প্রধান পরিশোধিত তেল রপ্তানিকারী। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের মজুদ নিশ্চিত করতেই বেইজিং এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা তেল পরিশোধনকারী ব্যবসায়ীরা এই মাসে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কারণ সামনেই চীনের চান্দ্র নববর্ষ উৎসবের ছুটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞায় তারা বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রীয় আদেশ মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং বিমান চলাচলসহ পরিবহন খাতে বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
শেষ না দেখা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নয়: সাবেক আইআরজিসি প্রধান
‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ লিখে হুঁশিয়ারি ইরানি স্পিকারের
গোটা লেবানন দখলের হুঁশিয়ারি ইসরায়েলের
ইরান থেকে ১৫০ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নিলো রাশিয়া
