আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। রোববার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় রাতে অভিযানে তালেবান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একাধিক কৌশলগত আস্তানা ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, কান্দাহার প্রদেশে তালেবান ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি প্রযুক্তিগত সহায়তা অবকাঠামো এবং সরঞ্জাম মজুত কেন্দ্র সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক এক হামলায় কান্দাহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুড়ঙ্গও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, ওই সুড়ঙ্গে টিটিপি-এর আধুনিক কারিগরি সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্র মজুত ছিল। পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে তালেবান সরকারের উদাসীনতা দূর না হওয়া পর্যন্ত এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কান্দাহারের বাসিন্দারা রাতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই সামরিক সাফল্যের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি হামলায় কান্দাহারে শুধুমাত্র একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহের হামলা ও পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের ১৩ সৈন্য ও ১ বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে আফগানিস্তানের ১৩ সৈন্য এবং ৭২ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে ১৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের এই নিন্দা তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করেছে। পাক মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি দাবি করেছেন, আফগানিস্তানে ভারতের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী আস্তানাগুলো ধ্বংস হওয়ায় দিল্লি হতাশ হয়ে পড়েছে, আর সেই হতাশা থেকেই তারা নিন্দা জানাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না: ট্রাম্প
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত: মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলো রাশিয়া
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে জাতিসংঘের উদ্বেগ
