ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের চলমান প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প তার এক পোস্টে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি রয়েছেন তারা এবং এই যুদ্ধ 'গুটিয়ে নেওয়ার' (winding down) সময় এসেছে।
তবে ট্রাম্পের এই শান্তির বার্তার সমান্তরালে পেন্টাগনের পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) সম্পন্ন হতে আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ২,৫০০ নৌসেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং যুদ্ধের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট বরাদ্দ চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে, পারস্য নববর্ষ 'নওরোজ' উৎসবের দিনটিতেও যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, ইরানও তার শক্তির জানান দিচ্ছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরান দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের তেল সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে ইরানের অন্তত ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন, ইরান তার শত্রুদের 'চরম শিক্ষা' দিয়েছে এবং মার্কিন-ইসরায়েল এই যুদ্ধকে তাদের একটি 'বিশাল ভুল গণনা' বলে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং শেয়ার বাজারের ধসের কারণে ট্রাম্প যুদ্ধের গতি কমিয়ে আনার কথা বললেও, বাস্তবতা হলো সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একদিকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা, অন্যদিকে আরও সৈন্য মোতায়েন এই দ্বিচারিতা প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটন এখনো একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্থান কৌশলে পৌঁছাতে পারেনি। সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
ইরানকে শায়েস্তা করতে চায় সৌদি-আমিরাত
