গত ফেব্রুয়ারিতে ভারজুড়ে অন্তত ৬৭টি ঘৃণাজনিত অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা জানুয়ারির তুলনায় প্রায় ৫৯.৫ শতাংশ বেশি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গড়ে প্রতি ১০ ঘণ্টায় একটি করে এমন ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশে সর্বোচ্চ ২০টি ঘটনা ঘটেছে। এরপরই রয়েছে তেলেঙ্গানা, যেখানে ১৪টি ঘটনার মধ্যে ১৩টি মুসলিমদের বিরুদ্ধে এবং একটি দলিতদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী হায়দ্রবাদেরই ৫টি ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রদেশে কয়েকটি মুসলিম পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কটের শিকার হতে হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা থেকে জীবিত মুসলিমদের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া একটি বিতর্কিত এআই-নির্মিত ভিডিওতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে মুসলিমদের ওপর গুলি চালাতে দেখানো হয়, যা ব্যাপক সমালোচনার পর সরিয়ে নেয়া হয়।
রমজান শুরুর আগে তেলেঙ্গানার একটি মসজিদে ভাঙচুর ও কোরআন অবমাননার ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন স্থানে ‘ফুড জিহাদ’সহ নানা অভিযোগ তুলে মুসলিমদের হয়রানির ঘটনাও সামনে এসেছে।
দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে জনসভায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু ঘটনায় সরাসরি হামলা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ফেব্রুয়ারিতে দলিতদের বিরুদ্ধে অন্তত ১৬টি অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিয়ে অনুষ্ঠানে হামলা, নারী নির্যাতন এবং এমনকি মৃত্যুর পর দাহকার্যে বাধা দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও হয়রানির একটি ঘটনা সামনে এসেছে।
এত ঘটনার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। বারানসীতে স্থানীয়রা মুসলিম দোকানদারদের রক্ষা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়তে সহায়তায় মানববন্ধন গড়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনাকে ‘মোহাম্মদ দীপক ইফেক্ট’ বলা হচ্ছে-যেখানে সাধারণ মানুষ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নথিভুক্ত ৬৭টি ঘটনা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম হতে পারে। ভয়, সামাজিক চাপ বা তথ্যের অভাবে অনেক ঘটনাই সামনে আসে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করা এখন জরুরি। সূত্র : মাকতূব মিডিয়া।
আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৮
