ভাই সেজে নিজের স্ত্রীকেই বিয়ে দিলেন স্বামী! 

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

অনলাইন ডেস্ক: বিয়ের পিঁড়িতে কনেকে ‘কন্যাদান’ করেছিলেন যে পাতানো ভাই, বাসর রাতের পরই জানা গেল তিনি আসলে কনের আগের স্বামী! ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ঘটেছে এই অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা। বিয়ের নামে লাখ লাখ টাকা ও গহনা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মূল হোতা স্বামী-স্ত্রীসহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

পাঁচ ভাইয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়েই বিপত্তি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালিয়রের নাকা চন্দ্রবদানি এলাকার বাসিন্দা রতন শর্মা একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। রতনদের পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের কেউই বিবাহিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তারা উপযুক্ত পাত্রী খুঁজছিলেন।

এই সুযোগটাই নেয় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। রতনের প্রতিবেশী সোনু তিওয়ারি তাদের সঙ্গে মোরেনার বাসিন্দা সোনু ওরফে অজয় চৌহানের পরিচয় করিয়ে দেন। অজয় নিজেকে এক দরিদ্র পালিত বোনের অভিভাবক দাবি করে বলেন, তিনি তার বোন রাধা ওরফে দীক্ষা মুদগলের জন্য পাত্র খুঁজছেন। মেয়েটির ছবি দেখে এবং সরাসরি সাক্ষাতের পর রতনের পরিবার এই বিয়েতে সম্মতি দেয়।

ধুমধাম করে বিয়ে, খরচ ৭ লাখ রুপি

গত ২৭ এপ্রিল জবলপুর থেকে গোয়ালিয়রে আসেন রতন শর্মা। ৭ মে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বেশ ধুমধাম করেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পুরো আয়োজনে রতনের পরিবারের প্রায় ৭ লাখ রুপি খরচ হয়।

অনুষ্ঠানে মায়া দেবী নামে এক নারী কনের মা সেজে ‘কন্যাদান’ করেন। এ ছাড়া শিল্পি পারমার, রাঘবেন্দ্র পারমার এবং সত্যেন্দ্র চৌহান নামে আরও কয়েকজন কনের আত্মীয় পরিচয়ে বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। আর কনের ভাই হিসেবে সবকিছুর তদারকি করছিলেন অজয় চৌহান।

বাসর ঘরের চ্যাটিংয়েই ফাঁস হলো আসল রহস্য!

বিয়ের পর নতুন বউকে নিয়ে সংসার শুরু করেন রতন। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই নববধূর আচরণে পরিবারের সবার সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনি দিন-রাত মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে চ্যাট করতেন এবং বাড়ির লোকেদের এড়িয়ে চলতেন।

এক রাতে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে রতন তার মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করেন। আর তখনই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে! স্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ঘেঁটে রতন জানতে পারেন, যে ব্যক্তি ভাই পরিচয় দিয়ে নিজের হাতে বোনকে বিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আসলে দীক্ষার আসল স্বামী!

তদন্তে জানা যায়, দীক্ষা ও সোনু চৌহান ২০২৪ সালে আগ্রার একটি আর্য সমাজ মন্দিরে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন এবং তারা এতদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই বসবাস করছিলেন। রতনের পরিবারকে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই ভুয়ো বিয়ের মূল উদ্দেশ্য।

পুলিশি অ্যাকশন: ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই রতনের পরিবার নববধূকে নিয়ে থানায় হাজির হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়ালিয়র পুলিশ কনে রাধা ওরফে দীক্ষা মুদগল, স্বামী সোনু ওরফে অজয় চৌহান, নকল মা মায়া দেবীসহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা করেছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত মূল হোতা সোনু চৌহানকে হেফাজতে নিয়েছে এবং অভিযুক্ত নারীকে একটি ওয়ান-স্টপ সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। (তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে)

HN
আরও পড়ুন