গ্রিসে কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অনলাইন আসক্তি কমাতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে গ্রিস। ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে এক কঠোর ডিজিটাল আইন প্রবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস এই ঘোষণা দিয়েছেন। ক্রমাগত মানসিক উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতি আসক্তি তৈরিকরা ডিজাইনের কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস বলেছেন, শিশুরা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানোর ফলে তাদের মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না। প্রতিনিয়ত অন্যের সঙ্গে তুলনা ও অনলাইন মন্তব্যের কারণে শিশুরা এক ধরনের মানসিক চাপের মুখে পড়ছে।

গ্রিক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি অনেক মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন- সন্তানরা ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে না, খুব সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে ও ফোনের পেছনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করছে।

ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত গ্রিসের শীর্ষস্থানীয় জনমত জরিপ ও বাজার গবেষণা কোম্পানি ‘এলসিও’ জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। গ্রিস সরকার এরইমধ্যে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে এবং টিনএজারদের স্ক্রিন টাইম বা ফোনে কাটানো সময় সীমিত করতে ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস বলেছেন, এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে গ্রিস অন্যতম হবে। তবে আমি নিশ্চিত, আমরাই শেষ দেশ হবো না। আমাদের লক্ষ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও এই পথে এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করা।

গেল ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে। ফলে দেশটিতে টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেইসবুকের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়েছে। মেটা, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক বলেছে, তারা এখনও মনে করে অস্ট্রেলিয়ার এই নিষেধাজ্ঞা তরুণদের সুরক্ষায় তেমন কাজে আসবে না। তবে তারা এই আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গ্রিস ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের আরও অনেক দেশ সামাজিক মাধ্যমের নিয়মকানুন কঠোর করছে। যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ড এরইমধ্যে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ভাবছে বা এ সংক্রান্ত আইন তৈরির কাজ শুরু করেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনকে লেখা এক চিঠিতে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ইন্টারনেট আসক্তি থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য কেবল কোনো একটি দেশের একক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়।

চিঠিতে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী পুরো ইইউ অঞ্চলের জন্য ডিজিটাল ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তিনি সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য বয়স যাচাইকরণ ও নিয়মিত পুনরায় যাচাইয়ের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছেন।

এছাড়া আইন অমান্য করলে শাস্তির জন্য অভিন্ন এক কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়ে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ইইউ ব্লকে যেন ঐক্যবদ্ধ এক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান। 

 

NB
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত