মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনাকে ঘিরে আশার আলো দেখছে বিশ্ব।
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে বলেছেন, এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীর কাছে শান্তি স্থাপন ছাড়া আর কোনো 'প্ল্যান-বি' বা বিকল্প পরিকল্পনা নেই।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'স্কাই নিউজ'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিলাওয়াল এসব কথা বলেন। শনিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই আলোচনাকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হাতে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, এই মাত্রার যুদ্ধ কোনো সমাধান হতে পারে না।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সংলাপ ব্যর্থ হয় তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং এমনকি ইউরোপের অর্থনীতিতেও এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিলাওয়ালের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রাণহানি কোনো দেশের জন্যই আর বহন করা সম্ভব নয়।
সাক্ষাৎকারে বিলাওয়াল আরও জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের মধ্যেই আস্থার বড় সংকট রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রে চীনের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে এই শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও, এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কূটনৈতিক গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সংলাপ সফল হলে এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ব্যর্থ মোদি, বিশ্বমঞ্চ থেকে ভারত বিচ্ছিন্ন
