শিগগিরই খুলবে হরমুজ প্রণালি, ইরানের ‘টোল’ মানবে না ট্রাম্প

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯ এএম

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে বড় ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সহায়তা থাকুক বা না থাকুক, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুব শিগগিরই পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটি সহজ কাজ হবে না, তবে আমি এইটুকু বলতে পারি যে আমরা খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করব। তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় এই জলপথ সচল করতে বিশ্বের আরও অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজের ওপর একটি সুনির্দিষ্ট টোল বা মাশুল আরোপের পরিকল্পনা করছে তেহরান। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এমন কোনো ব্যবস্থা মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, ‘যদি তারা (ইরান) এমন কোনো টোল বুথ বসানোর কথা ভাবে, তবে আমরা তা হতে দেব না।’

ট্রাম্পের মতে, যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তিনি বলেন, ‘ইরানের হাতে কোনো পরমাণু অস্ত্র থাকবে না এটাই আলোচনার ৯৯ শতাংশ। এটি নিশ্চিত হলে হরমুজ প্রণালি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।’ ট্রাম্পের দাবি, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করে, তবে তারা অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

গত মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল এখনও কার্যত বন্ধ। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। যেখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত, সেখানে গত কয়েকদিনে মাত্র ২২টি জাহাজ পার হতে পেরেছে।

লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, বর্তমানে ৩২৫টি তেলের ট্যাঙ্কারসহ মোট ৬০০ এর বেশি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।

শনিবার ইসলামাবাদে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।

সূত্র: আলজাজিরা

NB/
আরও পড়ুন