শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের তুরুপের তাস জেডি ভ্যান্স

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ইরানের সাথে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা নিরসনে এবার সরাসরি ময়দানে নামানো হয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে। ইতিপূর্বে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানিদের সাথে আলোচনা করলেও প্রশাসনের দৃষ্টিতে তারা লক্ষ্য অর্জনে সফল হননি। তাই এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে ভ্যান্সকে পাঠানো হয়েছে একজন ‘ক্লোজার’ বা চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে।

ভ্যান্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জেডি ভ্যান্সকে একজন কট্টর বিচ্ছিন্নতাবাদী (Isolationist) হিসেবে গণ্য করা হয়। ধারণা করা হয়, তিনি শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশের যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। এই ভাবমূর্তি ইরানের কাছে তাকে একজন গ্রহণযোগ্য বা অপেক্ষাকৃত নমনীয় আলোচক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। তবে ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নিয়েই তিনি টেবিলে বসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার:

১. হরমুজ প্রণালি সচল রাখা: যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই জলপথ খুব বেশি ব্যবহার করে না, কিন্তু ভ্যান্স ভালো করেই জানেন যে এটি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মার্কিন ভোটারদের পকেটে।

২. পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ: ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্রের কাছাকাছি পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ট্রাম্পের ভাষায় ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ উৎপাদন বন্ধ করা ভ্যান্সের প্রধান শর্ত হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধটি ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এর ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। তাই সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার একটি ‘অফ-র‍্যাম্প’ বা প্রস্থানের পথ খুঁজছেন ভ্যান্স। পারমাণবিক ও জ্বালানি ইস্যু বাদে বাকি বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা নমনীয় বা নেগোশিয়েবল অবস্থানে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত