ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে আগুনের নেপথ্যে কি নাশকতা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত যুক্তরাজ্যের ‘ফেয়ারফোর্ড’ (RAF Fairford) বিমানঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরের দিকে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের এই সামরিক স্থাপনায় আগুনের সূত্রপাত হয়। চলমান যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের মাঝেই এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কি নাশকতার আশঙ্কা রযেছে সে বিষয়ে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির একটি সরঞ্জাম সরবরাহকারী ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা যখন আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন, তখন ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে। তবে ব্রিটিশ বিমান বাহিনী (আরএএফ) নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং কোনো যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুন ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধে এই ঘাঁটিটি বর্তমানে আমেরিকার জন্য তুরুপের তাস। ফেয়ারফোর্ড ইউরোপের অন্যতম বিরল ঘাঁটি যেখানে আমেরিকার শক্তিশালী তিন ধরনের বোমারু বিমান-বি-১ ল্যান্সার, বি-২ স্পিরিট এবং বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস রাখা সম্ভব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি ইরানে হামলা চালাতে যেখানে ৩৭ ঘণ্টা সময় লাগত, এই ঘাঁটি ব্যবহারের ফলে সেই সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের অনুমোদনের পর থেকেই এটি মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

অগ্নিকাণ্ডের মাত্র একদিন আগে শনিবার ঘাঁটির সামনে প্রায় ২০০ মানুষ জমায়েত হয়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হটাও’ এবং ‘ট্রাম্পের প্রাণঘাতী যুদ্ধ বন্ধ করো’ এমন সব স্লোগান দেন। বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতামূলক কি না, তা নিয়ে গোয়েন্দা মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৪৪ সালে ডি-ডে আক্রমণের সময় এটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এছাড়া ১৯৮৬ সালে লিবিয়ায় হামলার সময় জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র এবং নাসার ‘স্পেস শাটল’ প্রোগ্রামের জন্য এটি ছিল যুক্তরাজ্যের একমাত্র জরুরি অবতরণস্থল।

গ্লুচেস্টারশায়ার ফায়ার সার্ভিস বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে মার্কিন বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।

FJ
আরও পড়ুন