এনপিটি সম্মেলনে ইরান সহ-সভাপতি নির্বাচিত, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাদানুবাদ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে আয়োজিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনার সম্মেলনে ইরান সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও কূটনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে। দেড় মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিনে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ডো হাং ভিয়েত ঘোষণা করেন যে, জোট নিরপেক্ষ ও অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে ইরানকে সম্মেলনের সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন প্রতিনিধি তীব্র প্রতিবাদ জানান।

মার্কিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়িউ এই পদক্ষেপকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘ইরানকে এই পদে নির্বাচিত করা এনপিটি চুক্তির জন্য একটি বড় অপমান। তারা দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আসছে এবং আইএইএ-কে (IAEA) সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছে। এই সিদ্ধান্ত সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’

মার্কিন অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আমেরিকা বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে। সুতরাং অন্যদের বিচার করার কোনো নৈতিক অধিকার ওয়াশিংটনের নেই।’

প্রায় দেড় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তেহরান দাবি করছে, শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত