মার্কিনিদের পরাজয় হয়েছে, হরমুজ চলবে আমাদের নিয়মে: মোজতবা খামেনি

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

পারস্য উপসাগর এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের অবসান ঘটেছে এবং এখন থেকে তেহরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই জলপথ পরিচালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক বিশেষ লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন।

বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা শক্তির আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের লজ্জাজনক পরাজয়ের দুই মাস পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে এই জলপথগুলোকে একটি নতুন ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছি।’ 

তিনি আরও দাবি করেন, এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং শত্রুদের অপব্যবহার থেকে এই নৌপথ মুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে তেহরান নতুন নিয়ম জারি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থক দেশগুলো বাদে অন্য দেশগুলো কেবল ইরানের অনুমতি সাপেক্ষে এবং নির্দিষ্ট ‘টোল’ প্রদানের মাধ্যমে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

গত মার্চে ইরানের পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল দিতে হবে।

ইরানের এই একতরফা সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অন্যদিকে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য ৬টি দেশ- সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে কোনো টোল দিতে রাজি নয়।

মোজতবা খামেনির এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে পারে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সূত্র: এএফপি ও জিও নিউজের।

FJ
আরও পড়ুন