কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কোটি কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি হাহাকার দেখা দেবে। বিশ্ব প্রবৃদ্ধি কমবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বলেন।
অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি এখন ‘শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায়’ রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে তেল, গ্যাস এবং বিশেষ করে সারের (Fertilizer) সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এখনই যদি সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়, তবুও আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগবে।’
জাতিসংঘ মহাসচিব বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন:
১. প্রাথমিক প্রভাব: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.১ শতাংশে নামতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ৪.৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
২. মধ্যমেয়াদী প্রভাব: সংঘাত যদি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে, তবে বিশ্বে নতুন করে ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হবে এবং আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে। সারের অভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলো কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে।
৩. চূড়ান্ত বিপর্যয়: যদি বছরের শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা বজায় থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর মন্দার (Recession) কবলে পড়বে, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেবে।
সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন গুতেরেস। তিনি সকল পক্ষকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অকারণে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিন। প্রণালিটি খুলে দিন এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে দিন।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ থাকা মানে বিশ্ব অর্থনীতির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া, যা ইতোমধ্যেই তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সূত্র: আলজাজিরা।
লেবানন যেন দ্বিতীয় গাজা না হয়: গুতেরেস
সংঘাতের অবসান নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার ওপর: গুতেরেস
আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ, চাঁদা চাচ্ছেন গুতেরেস!