যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বাজারে (US Tech Industry) খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে একের পর এক বড় প্রতিষ্ঠান গণছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে। আর এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন এইচ-১বি (H-1B) ভিসায় কর্মরত ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) পেশাজীবীরা।
হঠাৎ চাকরি হারিয়ে অনেকেরই এখন বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
কেন সংকটে এইচ-১বি ভিসাধারীরা?
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির (NDTV) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের যে ঢেউ চলছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভারতীয়রা। এর মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি।
৬০ দিনের ডেডলাইন: এইচ-১বি ভিসা নীতি অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর একজন বিদেশি কর্মী সর্বোচ্চ ৬০ দিন (Grace Period) সময় পান। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি খুঁজে না পেলে তাকে সপরিবারে মার্কিন মুলুক ছাড়তে হয়।
স্পন্সরশিপের জটিলতা: এই ভিসার নিয়ম হলো, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে কর্মীর ভিসার স্পন্সর হতে হয়। বর্তমান মন্দা পরিস্থিতিতে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান সহজে স্পন্সরশিপ দিতে চাচ্ছে না। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে নতুন চাকরি পাচ্ছেন না।
ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণগুলো কী কী?
প্রযুক্তি খাতে হঠাৎ এই কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর উত্থান
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ও অটোমেশনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। প্রথাগত কোডিং বা টেকনিক্যাল কাজের চাহিদা কমে আসায় আইটি খাতের কর্মী চাহিদাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে অনেক পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
২. পরিচালন ব্যয় ও বাজেট সংকোচন
করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বড় বড় টেক জায়ান্টগুলো (যেমন- গুগল, মেটা, আমাজন) তাদের পরিচালন ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে। বাজেট সংকোচনের অংশ হিসেবেই এই গণছাঁটাই।
প্রবাসী পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে বিপর্যয়
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এই ভারতীয়দের অনেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে পরিবার গড়ে তুলেছেন। সন্তানদের পড়াশোনা, ঋণের কিস্তি (Mortgage) এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা সামাজিক ও আর্থিক দায়বদ্ধতার কারণে এই চাকরিচ্যুতি কেবল পেশাগত ক্ষতি নয়, বরং তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। দীর্ঘদিন আমেরিকায় থাকার পরও এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি তারা।
এআই-এর রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক মন্দার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে যে কর্মী ছাঁটাই চলছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় দক্ষ জনশক্তির ওপর। মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে নতুন স্পন্সরসহ চাকরি পাওয়ার চ্যালেঞ্জই এখন তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ফের চোট পেলেন নেইমার, ম্যাচ খেলা নিয়ে শঙ্কা
৪ দিনের সফরে চীন পৌঁছালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
ঈদুল আজহার ছুটিতে লাইট-ফ্যান ও এসি বন্ধের নির্দেশনা