ইরানের স্পিকার গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের কথায় আস্থা নেই, কাজে প্রমাণ দিতে হবে

আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কোনো আশ্বাসে তেহরানের আস্থা নেই; তারা কেবল বাস্তব পদক্ষেপকেই মূল্যায়নের মানদণ্ড মনে করেন।

শুক্রবার (২৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

‘কথায় নয়, ইরান বিশ্বাস করে বাস্তব পদক্ষেপে’

বিবৃতিতে ইরানের প্রধান আলোচক ও স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন,

"আমরা কোনো ফাঁকা নিশ্চয়তা বা কথার ওপর বিশ্বাস করি না—শুধু বাস্তব কার্যক্রমই আমাদের মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড।"

গালিবাফ আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান আলোচনার টেবিলে নয়, বরং নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবস্থান সুসংহত করে। 

তিনি বলেন, "প্রয়োজনে আমরা মিসাইলের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করি। আলোচনায় আমরা কেবল প্রতিপক্ষকে আমাদের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করি মাত্র।"

তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য পক্ষ কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানও নিজের অবস্থান থেকে এক চুল নড়বে না। 

ভবিষ্যতের যে কোনো চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, "শেষ পর্যন্ত জয়ী সেই পক্ষই হবে, যারা চুক্তির পরদিন থেকেই যুদ্ধের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকবে।"

ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’ নিয়ে ক্ষুব্ধ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে মার্কিন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। 

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ ও ‘পরস্পরবিরোধী অবস্থান’ থেকে সরে না এলে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রশাসনের পরিবর্তনশীল অবস্থানের কারণে আলোচনার অগ্রগতি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থায়ী কোনো সমঝোতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের শর্তের তালিকা ও সিচুয়েশন রুমের বৈঠক

এর আগে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে নিজের কঠোর শর্তের তালিকা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

ট্রাম্পের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পারমাণবিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: ইরান কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে না।

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: হরমুজ প্রণালী ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ খুলে দিতে হবে এবং সব সমুদ্র মাইন অপসারণ করতে হবে।

ইউরেনিয়াম ধ্বংস: আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) তত্ত্বাবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংস করতে হবে।

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে বসছেন। তবে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে আটকে থাকা জাহাজগুলো এখন নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। 

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সাথে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।"

৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য

diplomatic সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি নীতিগত সমঝোতায় সম্মত হয়েছে। তবে দু’পক্ষের কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চললেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। ফলে পুরো বিষয়টি এখন হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত