ইরান যুদ্ধে ‘চরম বিপর্যয়ে’ যুক্তরাষ্ট্র

কমেছে সামরিক শক্তি, ক্ষুব্ধ মিত্ররা

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ১১:৩৯ এএম

ইরানের সাথে সামরিক সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক চরম কৌশলগত পরাজয় বা অত্যন্ত দুর্বল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রশাসন নিজেদের কতটা বড় ক্ষতি করে ফেলেছে, তা তারা নিজেরাও এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না বলে মনে করছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন করেছেন বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সুফান সেন্টার’-এর নির্বাহী পরিচালক কলিন ক্লার্ক।

কলিন ক্লার্ক মার্কিন সরকারের ভুল রণকৌশল তুলে ধরে বলেন, "আমার মনে হয় না বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আসলে সঠিকভাবে বুঝতে পারছে যে আমেরিকার জন্য পরিস্থিতি কতটা খারাপ রূপ নিয়েছে।"

তিনি এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন

কট্টরপন্থী নেতৃত্বের উত্থান: আমেরিকার বিমান ও সামরিক হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পরিবর্তে দেশটির শাসনক্ষমতায় এখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর আরও চরম কট্টরপন্থী এবং তুলনামূলক তরুণ একদল অবশিষ্টাংশ বা নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে।

হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ: এত যুদ্ধের পরও বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালি এখনও কার্যত বন্ধ হয়েই রয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ: ইরানের ওপর অনবরত হামলা চালাতে গিয়ে আমেরিকা তাদের নিজেদের মূল্যবান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ মারাত্মকভাবে শেষ বা সংকুচিত করে ফেলেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন করে অ্যাকশন বা পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা এখন ভীষণভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

ক্লার্কের মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকার সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল ছিল নিজেদের দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে অত্যন্ত বাজে ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করা।

মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোর মতামতকে পুরোপুরি পাত্তাই দিইনি, কোনো আক্রমণ করার আগে তাঁদের সাথে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করিনি, তাঁদের নিয়ে একপ্রকার উপহাস করেছি। আর এখন সংকট তৈরি হওয়ার পর আমরা তাঁদের বলছি—‘তোমরা নিজেরাই এখানে এসো, তোমাদের প্রয়োজনীয় তেল নিয়ে যাও এবং হরমুজ প্রণালি মুক্ত করো!’"

পররাষ্ট্রনীতির এমন বিপর্যয়কে ‘ফরেন পলিসি ম্যালপ্র্যাকটিস’ বা চরম অপেশাদার ও ভুল কূটনৈতিক চর্চা বলে আখ্যা দিয়েছেন কলিন ক্লার্ক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আজ থেকে মাত্র এক বা দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে শক্তিশালী অবস্থান ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে বহুগুণ খারাপ ও শোচনীয় অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত