বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক যুবক। শুভ পরিণয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত কাটতে না কাটতেই এই আকস্মিক দুর্ঘটনা তাঁর জীবন কেড়ে নেয়।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম ডেভ ফিজি, যিনি পেশায় ডেলটা এয়ারলাইনসের একজন পাইলট ছিলেন এবং তাঁর পূর্বপুরুষদের বাড়ি ভারতের কেরালা রাজ্যে। বিয়ের পর্ব চুকিয়ে নববধূর সঙ্গে মধুচন্দ্রিমার (হানিমুন) উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ডসনভিলে অবস্থিত বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের অদূরেই তাঁদের বহনকারী রবিনসন আর৬৬ (Robinson R66) মডেলের হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলে এই করুণ পরিণতি ঘটে।

আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-এর খবরে বলা হয়েছে, এই আকাশ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটির চালকও (পাইলট) মারা গেছেন। তবে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ওই চালকের পরিচয় প্রকাশ করেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডেভ ফিজির কনে জেসনি। তিনি পেশায় একজন নার্স। তিনি এ দুর্ঘটনায় বেঁচে গেছেন। বর্তমানে মেট্রো আটলান্টার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

ডেভের বাবা জর্জ ফিজি আটলান্টা নিউজ ফার্স্টকে বলেন, ‘আমার ছেলে খুব সুখী ছিল।’

জর্জ ফিজির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডেভ গত শুক্রবার জেসনিকে বিয়ে করেন। এক দশক আগে নিউ টেস্টামেন্ট চার্চে ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। ডসনভিলের দ্য রিভিয়ার-এ এই দম্পতির বিয়েতে প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি জর্জিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর ডেকাব-পিচট্রি বিমানবন্দরের উদ্দেশে একটি রবিনসন আর৬৬ হেলিকপ্টারে চড়েন। ডাউনটাউন আটলান্টার একটি হোটেলে রাত কাটানোর আগে নবদম্পতির জন্য এই ফ্লাইট এক বিশেষ বিদায়ী আয়োজন ছিল।

কিন্তু হেলিকপ্টারটি আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল থেকে খুব বেশি দূরে নয়, ডসন কাউন্টির মাউন্ট ভার্নন ড্রাইভের কাছে একটি প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে এটি বিধ্বস্ত হয়।

জর্জ ফিজি জানান, দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের হেলিকপ্টারটি খুঁজে পেতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে ছিলেন জেসনি। দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের নানা অংশে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

জর্জ ফিজি বলেন, তিনি (জেসনি) বলেছেন, যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, তখনো তিনি দেখেন, ডেভ ওর বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছেন। তিনি ডেভের শরীরে রক্ত দেখতে পান। ততক্ষণে তাঁর শরীর পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। যেহেতু জেসনি একজন নার্স, তাই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ডেভ আর বেঁচে নেই।

নিহত ডেভের বাবা আরও যোগ করেন, জেসনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

জর্জ ফিজির মতে, ডেলটা এয়ারলাইনসের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ডেভের উড্ডয়নের আগে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

জর্জ ফিজি বলেন, ‘যেহেতু আমার ছেলে নিজে একজন পাইলট ছিল, তাই ও হেলিকপ্টারের পাইলটকে বলেছিল, দৃশ্যমানতা একদম শূন্য (জিরো ভিজিবিলিটি)। যখন দৃশ্যমানতা এমন থাকে, তখন আমরা কখনই বিমান চালাই না।’

কিন্তু রবিনসন আর৬৬-এর পাইলট নাকি তাঁকে বলেছিলেন, তাঁরা আরও বেশি উচ্চতা দিয়ে উড়বেন।

ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) এ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হেলিকপ্টারটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো তারা নিশ্চিত করতে পারেনি।

YA
আরও পড়ুন