ইরানে পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম ক্যান্সার হাসপাতাল উদ্বোধন 

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:২১ এএম

ইরানের রাজধানী তেহরানে উদ্বোধন করা হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র—‘ইরান ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল’।

৬১০টিরও বেশি শয্যাবিশিষ্ট এই আধুনিক হাসপাতালটি এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাসনিম বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা জাফারকান্দি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ তলা বিশিষ্ট এই নতুন হাসপাতাল ভবনটি উদ্বোধন করেন।

৬১টি বিশেষায়িত বিভাগ ও আধুনিক প্রযুক্তি

ক্যান্সার প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং উন্নত চিকিৎসার একটি জাতীয় বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র হিসেবে এই হাসপাতালটিকে গড়ে তোলা হয়েছে। ৬০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই বিশাল হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার বিলিয়ন তুমান।

হাসপাতালটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, যা তৈরিতে আলাদাভাবে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ বিলিয়ন তুমান। হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য রয়েছে:

৩৭টি বিশেষায়িত বিভাগ

১১টি আধুনিক ইমেজিং ও রেডিওথেরাপি যন্ত্র

৯৬টি কেমোথেরাপি শয্যা

৬১০টিরও বেশি সাধারণ ও বিশেষায়িত শয্যা

'কঠিন পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যখাতে ইরান অবিচল'

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা জাফারকান্দি বলেন, ‘নতুন এই ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল চালু হওয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। 

প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এমন একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রমাণ করে যে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান যুদ্ধকালীন ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হওয়া একটি বড় বার্তা দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর জেনেভা বৈঠকেও আমি উল্লেখ করেছি যে, ইরানের স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জনগণকে সেবা দেওয়া থেকে পিছপা হয়নি এবং আজও সেই ধারা সাফল্যের সাথে অব্যাহত রয়েছে।
— মোহাম্মদ রেজা জাফারকান্দি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ইরান

পশ্চিম এশিয়ার চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই হাসপাতালটি এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে এবং কেবল ইরান নয়, পুরো অঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের উন্নত চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

HN
আরও পড়ুন