নাইজার বিমানবন্দরে বন্দুক হামলা, নিহত ৩৫

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম ও অন্যতম স্পর্শকাতর নিরাপত্তা স্থাপনা দিওরি হামানি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ঘটা এই হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। 

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন সেনাসদস্য, ২ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২২ জন হামলাকারী রয়েছে। এছাড়া হামলায় ৪ জন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একাধিক আরপিজি-৭ রকেট প্রোপেল্ড গ্রেনেড লাঞ্চার, বেশ কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, ওয়াকিটকি এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে আলকায়েদা সমর্থিত নাইজারের সশস্ত্র ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’য়াত নুসরাত আল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই তারা বিমানবন্দর এলাকায় প্রথম বিস্ফোরণ ও পরে অবিরাম গুলির শব্দ শুনতে পান। 

মূলত বেসামরিক বিমানবন্দর হলেও দিওরি হামানিতে নাইজার সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি এখানে নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো , এই তিন দেশের জোট 'অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস' বা এইএসের স্থাপনাও রয়েছে। অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই বিমানবন্দরে ৩৫০টিরও বেশি নজরদারি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও এই হামলা চালানো হয়।

মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের সরকার ও সেনাবাহিনী গত ১০ বছর ধরে কট্টর ইসলামপন্থি বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে সামরিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারিতেও এই বিমানবন্দরে আইএসপন্থি একটি গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছিল, যাতে ১ জন সেনাসদস্য ও ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়। সর্বশেষ এই হামলার পর জেএনআইএমের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সেনাবাহিনী জোরদার অভিযান শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র : বিবিসি

Attr
আরও পড়ুন