নিজেদের মধ্যে একটি বিশেষ ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ বা মাধ্যম খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে কাতারের দোহায় দ্বিপাক্ষিক সংলাপ শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই চ্যানেল বা মাধ্যমটি খোলার মূল উদ্দেশ্য হলো- আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’র কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করতে চায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসেন। তবে টানা ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পরও সেই বৈঠক ব্যর্থ হয় এবং কোনো চুক্তি ছাড়াই প্রতিনিধিরা ফিরে যান, যার ফলে যুদ্ধবিরতিটি চরম ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে।
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংকট কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি ধারার একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানের কাছে পাঠায়। প্রায় এক মাস পর্যালোচনার পর গত ১৫ জুন ইরান এতে সম্মতি জানায়। এরপর গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির প্রধান শর্ত অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত ইরানে সব ধরনের হামলা মুলতবি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই সময়ে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই ৬০ দিন ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে না এবং বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা (ফ্রিজড) ইরানি তহবিলের একটি অংশ তেহরান ফেরত পাবে।
এর বিনিময়ে ইরানকে অবশ্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ থেকে সব ধরনের অবরোধ তুলে নিতে হবে। পাশাপাশি, এই আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে তেহরান কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আদায় করতে পারবে না বলেও চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
মোজতবা খামেনিকে হত্যার হুমকি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’: ইরান
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হামলা, নিহত অন্তত ৮
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে ট্রাম্পের আশাবাদ, ভ্যান্সের হুঁশিয়ারি