দৈনিক ৩ ঘণ্টা ঘুমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী, ‘ওভারওয়ার্ক’ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ এএম

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা ও মাত্র ০ থেকে ৩ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। 

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমানোর কথা প্রকাশ করার পর থেকেই কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সবশেষ সরকারি ছুটির দিন ‘সমুদ্র দিবসে’ সাধারণ মানুষ যখন ছুটিতে ব্যস্ত, তখন তাকাইচি হাজার হাজার জমে থাকা ই-মেইল ও রাষ্ট্রীয় নথিপত্র পর্যালোচনায় সময় পার করেছেন। 

ছুটির দিনে টানা ৫ ঘণ্টা ঘুমাতে পারার পর নিজের জামাকাপড় সেলাই ও ইস্ত্রি করার মতো গৃহস্থালি কাজ সারার কথা এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শেয়ার করলে তা মুহূর্তেই ৩ কোটির বেশি ভিউ পায়।

প্রধানমন্ত্রী নিজেকে একজন সাধারণ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলেও, বিরোধী দল ও বিশ্লেষকরা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। 

তাদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা মদ্যপ অবস্থার মতো দুর্বল হয়ে পড়ে, যা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেক বিশ্লেষক এই ঘটনাকে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর ওপর থাকা বাড়তি সামাজিক চাপের একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। আগের পুরুষ প্রধানমন্ত্রীরা ঘরের কাজের জন্য স্ত্রীদের ওপর নির্ভর করলেও তাকাইচিকে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি নিজের গৃহস্থালি কাজও একাই সামলাতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতি বা 'কারোশি' (অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যু)-এর জন্য জাপান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাকাইচি 'কাজ, কাজ আর কাজ' করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তার এই অতিরিক্ত কাজের মানসিকতা এখন নীতিপ্রণেতা ও জনগণের উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সূত্র: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অফিসিয়াল এক্স (X) পোস্ট।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত