কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪, নিখোঁজ ২৭০০

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০ এএম

কলম্বিয়ায় শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকা থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিখোঁজের এই সংখ্যা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

 

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের কম্পন শুধু রাজধানী বোগোটায় নয়, প্রতিবেশী ইকুয়েডর, পানামা এবং দূরের ভেনিজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী আফটারশকও অনুভূত হয়।

 

ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ভবন ধসে পড়ে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। আশপাশের শহর এবং ভালে দেল কাউকা অঞ্চলও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেরেইরার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ৭২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। ভালে দেল কাউকা অঞ্চলের কালি শহরে নিহত হয়েছেন ৩৮ জন। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের গ্রামীণ প্রদেশ চোকোতে ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কালদাস অঞ্চলে দুজন এবং আন্তিওকিয়া অঞ্চলে ৭৩ বছর বয়সী একজন নিহত হয়েছেন।

 

মানিজালেস শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের মিনারসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

 

সোমবার রাত পর্যন্ত স্থানীয় নাগরিকদের পরিচালিত কয়েকটি ওয়েবসাইটে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্য দেওয়া হয়। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনো এ সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

 

উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আরো এলাকায় অনুসন্ধানকারী দল পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

 

ভূমিকম্পের পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। গত শুক্রবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভূমিকম্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার কার্যক্রম তার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

HN
আরও পড়ুন