ফ্লাইদুবাই বিমানে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ আমিরাতের

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

দুবাই-তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ককপিটে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল। তদন্তে ঘটনাটির কারণ ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র ছিল কি-না এবং এটি আগে থেকে পরিকল্পিত বা কারও নির্দেশনায় ঘটানো হয়েছিল কি-না, তা যাচাই করা হবে।

আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি বিশেষায়িত পাবলিক প্রসিকিউটরদের নিয়ে একটি তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। দলটি ইতোমধ্যে আমিরাতের জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিসিএএ) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করা বোয়িং ৭৩৭টি পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইটের ককপিটে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রু সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন এবং বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।

ককপিটে যা ঘটেছিল
ফ্লাইদুবাই প্রথমে জানায়, উড্ডয়নের সময় বিমানের ফ্লাইট ডেকে একটি ‘altercation’ বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিমানটির ক্রুরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান। এ ঘটনায় ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এরপর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আরও গুরুতর কিছু দাবি সামনে আসে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট অফিসার ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করার পর বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। যাত্রী ও ক্রুদের কয়েকজন ককপিটে ঢুকে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করা হয়। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য তখনও তদন্তাধীন ছিল। বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা খুব অল্প সময়ে হারিয়েছিল বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ঘটনাটি নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।

সন্ত্রাসের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে
আমিরাতের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি-না তা নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা ছিল কি-না, সেটিও তদন্ত করা হবে। তবে আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান বা যাচাই না হওয়া তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করলেও, ফ্লাইদুবাই এর আগে জানিয়েছিল ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য তদন্তাধীন এবং আগাম কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়।

আমিরাত তদন্ত করার কারণ
আমিরাতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত এবং দেশটির পতাকাবাহী হওয়ায় বিমানের ভেতরে সংঘটিত অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার তাদের রয়েছে। এমনকি বিমানটি আমিরাতের ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থান করলেও বিমানের ভেতরে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে আমিরাতের আইন প্রযোজ্য হতে পারে। অন্যদিকে সৌদি আরবের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টারও তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ফলে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক- বিমান নিরাপত্তা, ককপিটের সংঘর্ষ এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক উদ্দেশ্য একাধিক কর্তৃপক্ষের তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ফ্লাইদুবাই এ ঘটনার পর ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে আসা তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।

জেএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত