তেলকে পেছনে ফেলে কলম্বিয়ার রপ্তানির শীর্ষে কোকেন

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার অর্থনীতিতে অপরিশোধিত খনিজ তেলকে পেছনে ফেলে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো একক শীর্ষ রপ্তানি খাতের স্থান দখল করে নিয়েছে অবৈধ কোকেন।

মেডেলিন-ভিত্তিক ইএএফআইটি (EAFIT) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণাপত্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কলম্বিয়ার অবৈধ কোকেন রপ্তানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫০ কোটি (১৬.৫ বিলিয়ন) ডলারে। যা দেশটির প্রধান আইনি আয়ের উৎস খনিজ তেল খাতের ১ হাজার ৫০০ কোটি (১৫ বিলিয়ন) ডলারের আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট কোকেন সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশই তৈরি হয় কলম্বিয়ায়।

ইএএফআইটি-র গবেষকরা জানান, অবৈধ কোকেনের এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি দেশটির অন্যান্য বৈধ রপ্তানি খাতের চেয়ে বহুগুণ বেশি। তালিকায় ৭১০ কোটি ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কয়লা, ৪১০ কোটি ডলার নিয়ে চতুর্থ স্থানে বৈধ সোনা এবং ৩৬০ কোটি ডলারের অবৈধ সোনা উত্তোলন পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান, গত এক দশকে কোকেন অর্থনীতি মারাত্মকভাবে প্রসারিত হয়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে কলম্বিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ০.৮ শতাংশ ছিল কোকেন ব্যবসা, ২০২৪ সালে তা বেড়ে জিডিপির ৪.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই এক দশকে বার্ষিক কোকেন উৎপাদন বছরে ৩০০ মেট্রিক টন থেকে ১০ গুণ বেড়ে প্রায় ৩,০০০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে মাদক চোরাচালানের অবিশ্বাস্য মুনাফার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কলম্বিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতি কেজি কাঁচা কোকা পাতার দাম মাত্র ৪৬৮ ডলার। গোপন ল্যাবরেটরিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর প্রতি কেজি কোকেন হাইড্রোক্লোরাইডের দাম দাঁড়ায় ১,৪০০ ডলার। তবে আর্ন্তজাতীয় চোরাচালান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যখন ইউরোপের মতো বাজারে এই কোকেন পৌঁছায়, তখন পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ৭৮,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের এই বিপুল মুনাফা কলম্বিয়ার অর্থনীতিতে মাদক চক্রের নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্ত ভিত্তি এনে দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু

ওয়াইএ
আরও পড়ুন