ফিলিস্তিনিদের গাজা ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিতাড়ন বা সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সম্প্রতি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেন যে, তাদের সরকারের মূল লক্ষ্য গাজাকে ফিলিস্তিনিমুক্ত করা।
কাৎজের মতে, এই অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে স্থানান্তরিত করা বা তথাকথিত "স্বেচ্ছায় অভিবাসন" নিশ্চিত করা ছাড়া আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ খোলা নেই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরও প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল করেননি, কেবল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জাতিগত নিধন (এথনিক ক্লিনজিং)। অতীতে অতি-ডানপন্থী ইসরায়েলি নেতারা এ বিষয়ে সোচ্চার হলেও, এবার খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মুখে এমন বক্তব্য নতুন করে বিশ্বজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের চাপে ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মার্কিন মধ্যস্থতায় ১২ দফার একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আনা হয়েছিল, যেখানে গাজাবাসীর নিজ ভূমিতে থাকার অধিকারের কথা বলা হয়। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ত্রাণ সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং বিমান হামলা চালিয়ে পুনর্বাসনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সমুদ্র বা আকাশপথে গাজার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা প্রস্তুত হলেও মিসরীয় সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং মার্কিন সহায়তার অভাবে প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে চলছে। তবে কাৎজের এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। তিনি ইসরায়েলকে এই ধরনের জাতিগত নিধনের পরিকল্পনায় সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান।
সূত্র : আল জাজিরা
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
বরখাস্ত হলেন পুলিশের ৭ কর্মকর্তা